দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জ জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে মাস্টার্স ফরম পূরণকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মাস্টার্স (প্রাইভেট) পর্যায়ে ফরম পূরণের নির্ধারিত ফি ৪ হাজার ২৫৫ টাকা। আনুষঙ্গিক খরচ যোগ করলেও সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৪ হাজার ৩৫০ টাকার মধ্যেই ফরম পূরণ সম্পন্ন হওয়ার কথা। তবে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪ হাজার ৪০০ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজের বাইরের কম্পিউটার দোকানগুলোতে একই ফরম পূরণ সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৫০ টাকায় করা যাচ্ছে। সেখানে কলেজ প্রশাসনের আওতায় অতিরিক্ত ৫০ থেকে ১০০ টাকা আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
২০২২–২০২৩ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শিক্ষার্থী মো. তারেক হোসেন বলেন, ফরম পূরণের আগে বাইরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ৪৩০০ টাকার মধ্যেই কাজ শেষ হবে। কিন্তু বিভাগে এসে বলা হয় ৪৪০০ টাকা দিতে হবে। অতিরিক্ত টাকার কারণ জানতে চাইলে দপ্তরি জানায়, বিষয়টি স্যার জানেন।
অন্য শিক্ষার্থী মো. খালিদ হাসান বলেন, অনেক কষ্ট করে পড়াশোনার খরচ চালাতে হয়। এমনিতেই শিক্ষাখরচ বেশি, তার ওপর এভাবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া আমাদের জন্য জুলুমের মতো। আমরা চাই সরকারি নিয়ম অনুযায়ীই ফি আদায় করা হোক।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত স্থায়ী সমাধানসহ কলেজ প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
পরবর্তীতে কয়েকজন শিক্ষার্থী সরাসরি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ ফয়েজুর রহমান খানের সঙ্গে কথা বলেন। এ
সময় তিনি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এই টাকা আমাদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হয় না। যারা স্টাফ হিসেবে কাজ করেন, তাদের বেতনে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। মানবিক দিক বিবেচনায় তারা কিছু টাকা নেন। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আর হবে না বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহীদুজ্জামান ক্যামেরায় কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও এই প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি তার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট অনিয়ম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জে আই