দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ নেতা ও শৌলপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপিতে যোগদানের এক সপ্তাহের মাথায় তার বসতবাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিনগত মধ্য রাতে উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের চরগয়ঘর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় অন্তত ৩টি ঘরে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ৯টি আধাপাকা টিনের ঘর-দোচলা টিনের ঘর কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩টি ককটেল উদ্ধার করেছে।
ভাষানী শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি গত ১৭ জানুয়ারী বিএনপিতে যোগদান করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ভাষানী খান ২০২১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিজয়ী হন। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের অনুসারি হিসেবে এলাকার রাজনীতিতে পরিচিত ছিলেন ভাষানী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর কিছু দিন আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এলাকায় ফিরে আসেন। গত ১৭ জানুয়ারি শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলামের একটি সভায় উপস্থিত হয়ে ভাষানী তার অন্তত ৫ শতাধীক সমর্থক নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তরা প্রথমে ভাষানীর বাড়িতে হামলা চালান। ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক ছরিয়ে বসত ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এরপর দুর্বৃত্তরা জরো হয়ে ভাষানীর সমর্থকদের আরো ৮টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট ও ৩টি বাড়ির বসত ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার সময় ইউপি চেয়ারম্যান ভাষানী বাড়িতে ছিলেন না। তার স্বজনেরা জানান, বৃহস্পতিবার তিনি ও তার স্ত্রী সন্তানদের কাছে সংযুক্ত আরব আমীরাতে গেছেন।
এ বিষয়ে ভাষানীর ভাইয়ের ছেলে শাজাহান খান বলেন, আমার চাচা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও গত ১৭ জানুয়ারি পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। এই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আমাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়েছে। নারী ও বৃদ্ধদের ভীতসন্ত্রস্ত করা হয়েছে, ঘরের আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী নষ্ট করা হয়েছে। এ বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং হামলাকারী দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাই।
ঘটনার খবর শুনে শনিবার সকালে সেখানে যান বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ আসলাম।
তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও কষ্টদায়ক। এভাবে সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ, ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি নির্বাচনের পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলবে। আমি আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যদের অনুরোধ করেছি এটার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য। এ হামলাকারিরা যে দলের হোক তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
শরীয়তপুর সদরের চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক গোলাম রাসূল বলেন, শৌলপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িসহ ৯টি বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় তিনটি ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
কে