দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দীর্ঘ ১৯ মাস পর নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার আলোচিত সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান আসামি শাফিউলকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভিকটিম সুমনের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৪ সালের ২০ জুন রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে আত্রাই উপজেলার পয়সা গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে সুমন (৩৯) বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় ২২ জুন আত্রাই থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-৯১১) করা হয়।
নিখোঁজের কিছুদিন পর পরিবারের সদস্যরা বাড়ির পাশেই একটি ইটের টুকরায় রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশের উদ্যোগে ইটের ওপর থাকা রক্তের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে তা নিখোঁজ সুমনের রক্ত বলে শনাক্ত হয়। পরে ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর আত্রাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-৪)। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৬৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ে ভিকটিমের পরিবার। সম্প্রতি তারা নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নতুন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করলে তিনি মামলাটি নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ ও তদন্ত কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে সন্দেহভাজন শাফিউলকে শনাক্ত করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, সুমন তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয় এবং হাত ধরে টানাটানি করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাফিউল ও তার ছোট ভাই সায়েম ২০২৪ সালের ২২ জুন সুমনকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে আটক করে। গভীর রাতে বাড়ির পাশে একটি নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে দুই ভাই মিলে মরদেহ গুম করতে পাশের একটি নিচু জায়গায় মাটি চাপা দেয়।
উল্লেখ্য, ঘটনার কয়েক মাস পর সুমনের ভাই সায়েম আত্মহত্যা করেন।
শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত শাফিউলের দেখানো মতে পয়সা গ্রামের রমজানের পুকুর সংলগ্ন একটি পানির ডোবা সেচে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সুমনের হাড়গোড়সহ বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জেলার যে কোনো অপরাধ উদঘাটন ও দমন করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
জে আই