দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গহিন পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল ছলিমপুরে এবার সন্ত্রাসীদের গুলিতে র্যাবের ডিএডি মোতালেব হত্যার খবরে তার গ্রামের বাড়িতে চলছে মাতম।
র্যাবের ডিএডি (উপসহকারী পরিচালক) আব্দুল মোতালেবের বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার কালীর বাজার ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে। মৃত আব্দুল খালেক ভূঁইয়ার আট ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন মোতালেব।
আব্দুল মোতালেবের এক ছেলে ও দুই মেয়ে। তার ছেলে শাকিব, মেয়ে শারমিন ও মুনতাহা— সবাই ঢাকায় লেখাপড়া করে।
ডিএডি আব্দুল মোতালেবের ভাই জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের আট ভাইয়ের মধ্যে মোতালেব সবার ছোট। তিনি লেখাপড়া করার পর বিজিবিতে জয়েন করে। তারপর গত দুই বছর র্যাবে কাজ করেছে। গত শনিবার পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে এসেছিল। তার মেয়ে বলেছিল— ‘বাবা, তুমি এখন যেও না। মেয়ের কথা না শুনেই সে কাজে জয়েন করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল অভিযানে যাওয়ার পর সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি শহীদ হয়েছেন। একজন নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারও নিরাপত্তা নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, যারা হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো মায়ের মুখ যেন খালি না হয়। কোনো মেয়ে যেন তার বাবাকে না হারায়। স্ত্রী যেন স্বামীহারা না হয়, সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করছি।’
আব্দুল মোতালেবের মেজো ভাই মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাই অনেক ভালো মানুষ ছিল। তিনি সরকারি চাকরি করলেও সমাজের মানুষের সঙ্গে মিশে সামাজিক কাজ করত। ছোট ভাইকে হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। তার ছেলেমেয়েরা এতিম হয়ে গেছে।’
উল্লেখ্য, গতকাল ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গহিন পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল ছলিমপুরে এবার সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন র্যাবের ডিএডি আব্দুল মোতালেব। এ ঘটনায় এক সোর্সসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, এ ঘটনায় জঙ্গল ছলিমপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের অনুসারীরা এ হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে৷ বর্তমানে সন্ত্রাসীদের ধরতে ছিন্নমূল, আলীনগর ও লিংক রোড এলাকায় বিপুলসংখ্যক র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জঙ্গল ছলিমপুরের ভেতরে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এবি/