দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী সালমান ওমর রুবেল সমর্থকদের মাঝে দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে নজরুল ইসলাম (৪৫) মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিএনপির ৬৩ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে নিহত নজরুল ইসলামের ছেলে সোলায়মান বাদি হয়ে ৩৮ জনের নামে ও অজ্ঞাত ২৫ জনকে আসামি করে ধোবাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত নজরুল ইসলাম উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের রামসিংহপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থক।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার উত্তর গামারীতলা গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে মো. আদম আলী (৫৪), চন্দ্রকোনা গ্রামের মৃত আছম আলীর ছেলে মো. দুলাল মিয়া ও ইব্রাহিম (৫৫)। গ্রেপ্তার মো. আদম আলী ঘোষগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক। দুলাল মিয়া ও ইব্রাহিম বিএনপির কর্মী।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
জানাযায়, শুক্রবার সন্ধ্যার পর ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যান স্বতন্ত্রপ্রার্থী সালমান ওমর রুবেল। উদ্বোধন শেষে ফিরে আসার সময় বিএনপি প্রার্থীর সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের সমর্থক ফরহাদ, আজহারুল, শাহাজাহান মেম্বার, আদম আলীসহ বেশ কয়েকজন হামলা করে। হামলায় নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নজরুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে মরদেহ নিয়ে রাতেই বাজারসহ উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থিত নেতাকর্মীরা। মিছিলে হত্যার সাথে জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেন।
আজ শনিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদের সামনে হত্যার জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য মানববন্ধন বিক্ষোভ করে নিহতের স্বজন ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থকরা।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্রপ্রার্থী সালমান ওমর রুবেল বলেন, আমাদের অফিস উদ্ধোধন করে বের হওয়ার সময় অতর্কিত হামলা করে প্রিন্স ভাইয়ের লোকজন। হামলায় ফরহাদ, আজহারুল, শাহজাহান মেম্বার, আদম আলী আটকে ছুরিকাঘাত করে। পরে তাকে ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমার কর্মী নজরুল ইসলামকে হত্যার সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তারে দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, পারিবারিক কোন একটা সমস্যা নিয়ে ঝামেলার কারণে নজরুল হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক রঙ লাগানোর চেষ্টা করছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে দুলা ভাই এবং বোন জামাই তাদের পাশাপাশি বাড়ি এবং তাদের নিয়ে আগে কোন সমস্যা ছিলো। যে মারছে সে যদি দলের সমর্থক হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমিও চাই হত্যার বিচার।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নজরুল ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বাদ মগরিব পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
জে আই