দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরায় লিগাল এইড কার্যক্রমে জোরদার উদ্যোগ, ন্যায়বিচার পৌঁছাবে ঘরে ঘরসাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের আইন সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জনগণের কাছে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় এক গুরুত্বপূর্ণ জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) মোজাফফর গার্ডেন অডিটরিয়ামে আয়োজিত এই সভায় বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা লিগাল এইড কার্যক্রমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরম্নল ইসলাম সভার সভাপতিত্ব করেন।
তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে শুধু আদালত নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সহিংসতা প্রতিরোধে আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। ঘটনা ঘটার আগেই সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। ভুক্তভোগী যেন দ্রুত ও যথাযথ আইনি সহায়তা পায়, সে জন্য আলামত সংগ্রহ থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়া সচেতনভাবে পরিচালিত হতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রণব কুমার হুই, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ গৌতম মল্লিক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিন চৌধুরী। তারা সবাই লিগাল এইড সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে আইনের সঠিক ভাষা সহজে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে শিশুদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিশুদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা ও তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার শিল্পী শর্মা বলেন, আইন সহায়তা যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে মানুষের জীবনে প্রতিফলিত হয়, এটাই আমাদের লক্ষ্য। নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে কাজ করে আমরা এই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।
নেদারল্যান্ডসের তেড়ে দেশ হোমস প্রতিনিধি নুরম্নল কবির বলেন, “ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব। স্থানীয় পর্যায়ে লিগাল এইড কার্যক্রম শক্তিশালী হলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আমরা এই উদ্যোগের পাশে থেকে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা লিগাল এইড কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করেন। সভার শেষে বিচার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার করেন।
সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভা থেকে আশা করা হচ্ছে, লিগাল এইড কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছালে প্রান্তিক মানুষ দ্রুত ও সহজে আইনের সুরক্ষা পাবে এবং সহিংসতা প্রতিরোধে আগাম সচেতনতা গড়ে উঠবে। বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও সিভিল সোসাইটির সমন্বিত প্রচেষ্টা সমাজে ন্যায় ও মানবিকতার সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।
জে আই