দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বিধিনিষেধ অযৌক্তিক। এর মাধ্যমে একটি খেলা খেলা, জালিয়াতি করার সুযোগ থেকে যায়। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন থেকে বলা হয়েছিল শুধু পাঁচশো ব্যক্তির স্বাক্ষরের ব্যবস্থা যেন নেয়া হয় এবং স্বাক্ষরগুলো যেন হলফনামার মাধ্যমে দেওয়া হয়।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে নগরের নতুন বাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টের হল রুমে সুজন জেলা ও মহানগর শাখা আয়োজিত 'গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনি ইশতাহার'- শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি।
মজুমদার বলেন, আমরা নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্থার কমিশনের পক্ষ থেকে বলেছিলাম শুধু ৫০০ ব্যক্তির স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা যেন সৃষ্টি হয় এবং এ স্বাক্ষরগুলো যেন হলফনামার মাধ্যমে দেওয়া যায়। তাহলে এখন যেভাবে ১০ জনকে ডেকে আনা হয়, কারও কারও ক্ষেত্রে অভিযোগ আছে স্বাক্ষরকারীদের চাপ প্রয়োগ করে। এর মাধ্যমে একটি জালিয়াতির সুযোগ থেকে যায়। আমরা যে সংস্কার প্রস্তাবটি করেছিলাম সেটি আরপিওতে সংযুক্ত হলে এই ধরণের কারসাজি করার আর সুযোগ ছিল না। দুর্ভাগ্যবশত নির্বাচন কমিশন এটি আরপিতে অন্তর্ভুক্ত করেনি, যে কারণে এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এর দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। জানিনা এর কিভাবে প্রতিকার হবে। এটি কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। ভবিষ্যতে যেন এই সংস্কার আরপিওতে সংযুক্ত করা হয় সেটি নিশ্চিত করা দরকার।
তিনি আরও বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে ব্যাপক দলীয়করণ হয়েছে। যদিও দলীয়করণ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। এই দলীয়করণের কারণে আমাদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দলীয় সদস্যে পরিণত হয়েছে, স্বার্থ রক্ষা করেছে। এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সহজ নয়। যেহেতু এখন নির্বাচন হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আমি আশা করব সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করবে যাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের গণতন্ত্রের ভিত তৈরির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই নির্বাচন গণতন্ত্রের ভিত সৃষ্টি করবে। তাই এই নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া দরকার। নির্বাচনের পরে আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণ হওয়া দরকার। কতগুলো সুদূরপ্রসারী সংস্কার করা দরকার। আইনি সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং কাঠামোগত সংস্কার। যার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করবে এবং প্রতিবারই সুষ্ঠু অনিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, মাঝে মাঝে নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। কিন্তু শুরু হইতে হবে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। এর জন্য রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ সকলকেই ভূমিকা রাখতে হবে। জাতির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা নির্ধারণ করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।
এতে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের ১০ জন প্রার্থীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির দলীয় প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ, জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী কামরুল আহসান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী মোস্তাক আহাম্মদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির লিয়াকত আলী ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী এমদাদুল হক।
সংলাপে অংশ নেওয়া নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান, ময়মনসিংহ শহরের যানজট নিরসন, সংস্কৃতির বিকাশ, ঘুষ-দুর্নীতি ও হয়রানী বন্ধ, নগরে সড়ক বৃদ্ধি, খেলার মাঠ বাড়ানো, পরিকল্পিত নগরায়ণ, নারী বান্ধব পরিবেশ, কৃষিখাতে সিন্ডিকেট ভাঙাসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। এছাড়া গণভোট নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থানের কথাও জানান। এসব নিয়ে সংলাপে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে সমাধানের আশ্বাস এবং নির্বাচনি ইশতাহারেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনি ইশতাহার'- শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর শাখার। সংলাপে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল থেকে সুজন প্রতিনিধি ও নাগরিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
জে আই