দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ময়মনসিংহের ফুলপুরে বিজয় দিবস উদযাপনে মুছে ফেলা হয়েছে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন বৈষমবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়নি অপসারণ করা হয়েছে প্যানা পোস্টার।
সারাদেশের মতো জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে ময়মনসিংহের ফুলপুরের শিক্ষার্থীরা। রাস্তা বেরিকেট দিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে সাইফুল ইসলাম নামে এক কৃষক শহীদ হোন।
আন্দোলনের শক্তি সঞ্চার করতে ফুলপুর গোল চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের বেদীতে অংকন করেন পানি লাগবে কারো পানি, স্বাধীনতা এনেছি সংস্কারও আনবো, এক সাঈদ লোকান্তরে লক্ষ সাঈদ ঘরে ঘরে। এমন সব উক্তি লিখেন শিক্ষার্থীরা। বিজয় দিবস উপলক্ষে স্মৃতিস্তম্ভের দেয়ালে লেখা এমন সব উক্তি মুছে ফেলায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
জুলাইযোদ্ধা সামাদ খান নাঈম বলেন, ২/৩ ধরে দেখছি আমাদের অংকিত গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে। কারা এ কাজটি করেছে জানি না, তবে তা খুব খারাপ হয়েছে। এটা আশা করিনি। আমরা আন্দোলনের ফাঁকে ফাঁকে এগুলো একে ছিলাম। এখন ইচ্ছে করলেই তা আঁকা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুঠোফোনে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, জুলাই আন্দোলনের কোনো গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়নি। তবে প্যানা পোস্টার ছিল সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে। উপজেলা শহরের গোল চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের দেয়ালে কোনো গ্রাফিতি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
এরপর ফুলপুর উপজেলা প্রশাসন ফেইসবুক আইডি থেকে রাত ১২টার দিকে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে লিখা হয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী গোল চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পোস্টার অপসারণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে অংকিত গ্রাফিতি ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়ায় মুছে ফেলা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর সেগুলো নতুন করে অংকিত করা হবে। এ নিয়ে কেউ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়বেন না।
ময়মনসিংহ সমাজ রুপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, কোনো কিছু মুছে দিয়ে লিখে দেওয়া প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করে না। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নিজের অংকিত লেখার মাধ্যমে সাহস সঞ্চার করেছিলেন। তাই ইতিহাস মুছে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আরএ