দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের জন্য খনন করা সরু গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছর বয়সী শিশু সাজিদকে প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হলেও তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিস তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বার্নাবাস হাসদা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডা. বার্নাবাস জানান, সাজিদকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। অতিরিক্ত ঠান্ডা ও অক্সিজেনের ঘাটতিই মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, শিশুটিকে ৬০ ফুট নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে তোলার সময় আমাদের আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হলেও পরে জানতে পারি—সে আর নেই। পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।”
তবে শিশুটির নানা আইয়ূব আলীর দাবি, উদ্ধার করার মুহূর্তে সাজিদ জীবিত ছিল। তিনি বলেন, “ফায়ার সার্ভিসের লোকজন বলছিলেন, সে বেঁচে আছে। আমি নিজেও দেখেছি সে নড়ছিল। হাসপাতালে আসার পর মারা গেল।” মরদেহ তার বাড়ি তানোর কুড়িরহাট পূর্বপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ উদ্ধার অভিযানকে অত্যন্ত জটিল বলে উল্লেখ করেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম। তার ভাষায়, “এটি ছিল ভিন্ন ধরনের উদ্ধার অভিযান। পাইপের ব্যাস ছিল মাত্র ৬ থেকে ৮ ইঞ্চি। স্থানীয়রা আবেগের বশবর্তী হয়ে আগেই পাইপে নামতে গিয়ে মাটি ও খড়কুটো জমে যায়। এতে শিশুটি আরও নিচে চাপা পড়ে।”
তিনি জানান, সার্চ ভিশন ক্যামেরা প্রবেশ করালে পাইপের ভেতরে শুধু মাটি ও খড়কুটো দেখা যায়—শিশুর কোনো হাত-পা বা অঙ্গের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবুও শিশুটি জীবিত থাকতে পারে এই বিশ্বাসে সর্বোচ্চ সতর্কতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
বুধবার দুপুরে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সাজিদ তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গে খড় দিয়ে ঢাকা একটি জমি পার হচ্ছিল। খড়ের নিচে একটি অরক্ষিত, মুখ খোলা গভীর নলকূপের গর্ত ছিল—যা মা জানতেন না। হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ গর্তে পড়ে যায়। ‘মা মা’ চিৎকার শুনে মা ফিরে খড় সরাতেই প্রকাশ পায় ভয়াবহ মৃত্যুকূপটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। পানি না পেয়ে কাজ বন্ধ হলে পাইপটি মুখ খোলা অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়। বর্ষায় গর্তটি আরও বড় হয়ে যায়। কোনো সতর্কতা চিহ্ন না থাকায় অবশেষে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
আরএ