দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আবু জাফরের সঙ্গে তর্কে জড়ানো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের সেই চিকিৎসককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসদাচরণ করায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে মমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস স্বাক্ষরিত নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।
অব্যাহতি পাওয়া চিকিৎসক হলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটির ইনচার্জ ডা. ধনদেব বর্মন।
জানা গেছে, শনিবার সকালে শিশুদের মূত্রাশয় ও প্রজননতন্ত্র সম্পর্কিত রোগের চিকিৎসা বিষয়ক চলমান চিকিৎসার সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি সেমিনারে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রধান অতিথি হিসেবে আসেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।
সেমিনারে অংশগ্রহণের আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সেবার মান, জরুরি বিভাগ পরিচালনা, রোগী ব্যবস্থাপনা ও স্টাফদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এসময় ক্যাজুয়ালিটি ইনচার্জ ডা. ধনদেব বর্মন তার বিভাগের সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকট এবং দায়িত্ব পালনের চাপে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ নিয়ে শুরু ডিজির সঙ্গে ডা. ধনদেবের শুরু হয় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। পরে ডা. ধনদেব বর্মনকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শনে গিয়ে ডিজি ভেতরে টেবিল থাকার কারণ জানতে চান চিকিৎসকদের কাছে। এ সময় জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালটি ইনচার্জ ডা. ধনদেব বর্মণের সঙ্গে তর্কে জড়ান। অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে টেবিল থাকার কারণ হিসেবে লিখতে হয় জানান ডা. ধনদেব বর্মণ।
এ সময় ডিজি বলেন, ‘আপনি কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন, কথাবার্তা হুঁশ করে বলবেন।’ এ সময় ডিজি নিজের সঙ্গের লোকজনকে ভিডিও করতে বলেন।
ডিজি বলেন, ‘যারা ডিজির সঙ্গে এমন ব্যবহার করে তারা রোগীর সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে।’ তখন চিকিৎসক বলেন, ‘আমি রোগীর সঙ্গে অনেক ভালো বিহেব করি, কিন্তু যারা দায়িত্বে আছে তাদের সঙ্গে আমার বিহেব ভালো না।’ কারণ হিসেবে চিকিৎসক বলেন, ‘ডাক্তার সম্প্রদায় বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে নয়।’ তখন ডিজি বলেন, ‘এটা তো অন্য বিষয়। কিন্তু আপনি তো বিহেবই শিখেন নাই।’
এ সময় চিকিৎসক বলেন, ‘ঢাকায় তিনদিনের ট্রেনিং করলাম আপনার দুদিন আসার কথা ছিলো একদিনও আসেন নি।’ এ সময় ডিজি ও চিকিৎসকের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়৷ এ সময় চিকিৎসক বলতে থাকেন, ‘আমাকে সাসপেন্ড করেন নো প্রবলেম।’ এ সময় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস ও উপ-পরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) ডা. মো. আবু জাফর বলেন, ‘বাংলাদেশের সব হাসপাতালেই ধারণা ক্ষমতার বেশি রোগী। আমাদের হাসপাতালের সংখ্যা বাড়াতে হবে ও জনবল বাড়াতে হবে। যে কোন সময় হিসাব করলে দেখা যাবে সারা দেশে ১৫ হাজার রোগী মেঝেতে থাকে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে গেলে সময়ের দরকার, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তো খুবই কম। এটি দীর্ঘ মেয়াদী বিষয়। দেশে অনেক হাসপাতাল রয়েছে যেগুলো এখনো অব্যাবহৃ রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এগুলো স্থাপন করা হয়নি। ভবন হয়েছে কিন্তু প্রশাসনিকভাবে এগুলো হস্তান্তর হয়নি। অথবা জনবল কাঠামো অনুমোদন হয়নি। এই সমন্বয়হীনতা রয়েছে। আমরা যদি উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত মানসম্মত সেবা দিতে পারি তাহলে মেডিকেল কলেজগুলোতে চাপ কমে যাবে। আমরা সে চেষ্টা করছি।’
অর্ধেক নির্মাণকাজ হয়ে আটকে থাকা ময়মনসিংহ শিশু হাসপাতাল সম্পর্কে ডিজি বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে না হওয়ার কারণে মাঝপথে থেমে গেছে। যে জটিলতা রয়েছে তা সমাধানে সময় লাগবে। অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে আর সময় নেই, পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার এসে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।’
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, ‘পরিদর্শনে সেবার মান নিয়ে মহাপরিচালকের সঙ্গে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের ইনচার্জ ডা. ধনদেব বর্মনের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। যা মোটেও ঠিক হয়নি। এ ঘটনায় তাকে চলমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী ব্যবস্থা পরে জানানো হবে।’
এবি/