দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক পুশ-ইন হয়ে বাংলাদশে আসার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাবন্দী গর্ভবতী ভারতীয় নারী সোনালী খাতুনসহ ৬ জন জামিন পেলেও নিজ দেশে ফিরতে পারছে না তারা।
বুধবার (৩ নভেম্বর) তাদের আদালতে হাজিরা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী একরামুল হক পিন্টু।
এর আগে, গত সোমবার শুনানি শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (তৃতীয় আদালত) মো. আশরাফুল ইসলাম তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। ওই দিন রাতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তারা জামিনে বেরিয়ে আত্মীয়র বাড়িতে উঠলে দেড় ঘণ্টায় মাথায় আবারও তাদের পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে গতকাল আবারও আদালত থেকে আসামিদের জিম্মাদার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়াগোলার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আজ সকালে হাজিরা শেষে তারা আবারও আত্বীয়র বাসায় ফিরে যান। তবে তারা নিজ জন্মভূমি ভারতে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানান।
আইনজীবী একরামুল হক পিন্টু আরও বলেন, অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন যে কোনো সময় বাচ্চা প্রসব করতে পারেন। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনিসহ বাকি আরও তিনজনকে জামিন দেওয়া হয়েছ। তবে মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা নিজ দেশে ফিরতে পারবে না। আপাতত পৌর এলাকার নয়াগোলার বাসিন্দা জিম্মাদার ফারুক হোসেনের বাসায় থাকতে হবে। আগামী ২৩ ডিসেম্বর হাজিরার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।
ভারতীয়রা হলেন- পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার পাকুরের দানিশ শেখ (২৮), তার স্ত্রী সোনালি বিবি (২৬), সুইটি বিবি (৩৩) ও তার দুই সন্তান, মো. কুরবান দেওয়ান (১৬)। এছাড়াও সুইটি বিবির আরেক সন্তান মো. ইমাম দেওয়ান (৬) ও সোনালী বিবির সন্তান সাব্বির শেখ (৮) কারাগারে বন্দি থাকলেও মামলা আসামি ছিলেন না।
আটককৃতরা জানান, ভারতের দিল্লিতে ইটভাটায় কাজ করার সময় গত ২৬ জুন নারী ও শিশুসহ ওই ছয়জনকে ‘বাংলাদেশি’ দেখিয়ে ভারতীয় পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়। এরপর তারা প্রায় দুই মাস ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আলীনগর এলাকায় অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। পরে ২০ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের আটক করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল। পরে তাদের বিরুদ্ধে সীমান্তে অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ওই ছয়জনের মধ্যে দুইজন কোলের শিশু হওয়ার মামলায় তাদের আসামি করা হয়নি।
সোনালীসহ অন্যরা জানান, ভারতের দিল্লি পুলিশ তাদের অমানসিক নির্যাতন শেষে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কারাগারে বন্দি অবস্থায় সুযোগ সুবিধাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপণা নিয়েও তারা প্রসংসা করেন এবং এর সঙ্গে জড়িত সকলকে ধন্যবাদ জানান।
গত ২০ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আলীনগর থেকে ওই ৬ ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কুড়িগ্রামের একটি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করে বিএসএফ। পরে তাদের বিরুদ্ধে সীমান্তে অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ওই ছয়জনের মধ্যে দুইজন কোলের শিশু হওয়ার মামলায় তাদের আসামি করা হয়নি।
আরএ