দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে চোরাই মোটরসাইকেল কিনে বিপাকে পড়েছেন যুবদল নেতা রায়হান আহমেদ লিজন। সখের বসে প্রতিবেশী আহাদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পমূলে মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন তিনি।
পরে জানা যায়, মোটরসাইকেলটি ছিনতাই করা। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ তাকে বাড়ি থেকে আটক করে এবং মোটরসাইকেল ছিনতাই মামলায় তার নাম যুক্ত করা হয়। এরপর জেলায় যে কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটলেই একের পর এক মামলায় লিজনের নাম যোগ হতে থাকে।
লিজন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লার সিংগাইর গ্রামের নুরু ইসলামের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ—কোনো অভিযোগপত্র বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ বারবার তাদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। এমনকি সম্প্রতি গভীর রাতে থানার এএসআই আমিনুর রহমান ও আরও দুই পুলিশ সদস্য পোশাক ছাড়া বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়ে ডিআইজি ও পুলিশ সুপারকে অভিযোগ জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, প্রথমবার গ্রেপ্তারের পর ‘ছাড়িয়ে দেওয়ার’ আশ্বাসে ডিবির এসআই নাফিউল ইসলামের কাছে ৭০ হাজার টাকা দিতে হয়। পরে রিমান্ডে থাকা অবস্থায় আরও ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার বিষয়টি কাউকে না বলার শর্তে লিজনের বাবার ভিডিও জবানবন্দিও নেওয়া হয়।
আরও গুরুতর অভিযোগ—লিজন দেশে না থাকা অবস্থাতেও তার নামে ডাকাতির মামলা দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী তিনি ৪ ডিসেম্বর ভারত যান এবং ৭ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন। কিন্তু ৫ ডিসেম্বর বাগুটিয়া ব্র্যাক অফিস ডাকাতির ঘটনায় তার নাম আসামি হিসেবে যোগ করা হয়। আবার ছিনতাই মামলায় হাজতে থাকার সময়ও আরেকটি ডাকাতি মামলা হয় তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকার দাবিতে লিজনকে বারবার টার্গেট করা হচ্ছে। টাকা না দিলে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
রায়হান আহমেদ লিজন বলেন, ‘স্ট্যাম্প করে মোটরসাইকেল কিনেছি। পরে পুলিশ কাগজপত্র নিয়েই আমাকে ডিবি অফিসে নেয়। দেশে না থাকলেও মামলা দিয়েছে। আমরা পরিবারসহ ভয় ও হয়রানির মধ্যে আছি।’
এএসআই আমিনুর রহমান বলেন, ‘রাতে যাওয়ার বিষয়ে এসপি স্যারকে লিখিত জবাব দিয়েছি। স্যার অনুমতি ছাড়া কিছু বলতে পারবো না।’
তৎকালীন ডিবির এসআই নাফিউল ইসলামের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি কথা বলেননি।
কালিহাতী থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘রাতে গেট ভেঙে প্রবেশ করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে এবং তাদের এসপি বরাবর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।’
এমএস/