দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে ট্রলারডুবিতে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুই তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে একই গ্রামের আরও ছয় যুবক। নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এ ঘটনায় মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষির ইউনিয়নের পশ্চিম লওখন্ডা গ্রামের পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন- পশ্চিম লওখন্ডা গ্রামের জাহিদ শেখের ছেলে আনিস শেখ ও একই এলাকার আকোব আলী শেখের ছেলে এনামুল শেখে।
এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন- আওলাদ শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ, হায়দার শেখের ছেলে ধলা শেখ, ইকরাম মীনার ছেলে দুলাল মীনা, হায়দার মীনার ছেলে আশিক মীনা, খালেক মোল্যার ছেলে সোহেল মোল্যা। তারা সকলেই পশ্চিম লওখন্ডা গ্রামের। এছাড়া নিখোঁজ অপর ব্যক্তি হলেন- মুকসুদপুরের কাশালিয়া ইউপির গুনহর গ্রামের হাফিজ মীনার ছেলে নিয়াজ মীনা।
নিহত এনামুল শেখের পিতা আকোব আলী শেখ জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে লিবিয়ার আল খুমস উপকূল অঞ্চল থেকে তার ছেলেসহ কয়েকজন একটি বোটে করে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। মাঝপথে কোস্টগার্ড তাদের ধাওয়া করলে নৌকাটি ডুবে যায়। এতে তার ছেলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, গত এক মাস আগে মাদারীপুরের দালাল এনামুলের মাধ্যমে ২১ লাখ টাকার বিনিময়ে আমার ছেলেকে লিবিয়া পাঠিয়েছিলাম। এক মাস পরে তাকে 'গেম' দিয়েছে। ২১ লাখ টাকার বিনিময়ে আমার ছেলে লাশ হলো। সরকারের কাছে দাবি, আমার ছেলের লাশটা দেশে আনতে ব্যবস্থা করে দিন।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকালে সরেজমিনে নিহতদের পশ্চিম লওখন্ডা গ্রামে দেখা যায় শোকাবহ পরিবেশ।
উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর রাতেও লিবিয়ার আল খুমস এলাকায় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু ঘটেছিল। অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রার এই প্রবণতা বহু তরুণের জীবন কেড়ে নিচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামান বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে জানতে পেরেছি। অফিসিয়ালভাবে কাগজপত্র পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরএ