দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও অগ্রীম বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে এবং সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলেও ঠিকাদাররা এলজিইডির কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে অগ্রিম বিল তুলেছেন বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উপজেলার পাঁচটি বিদ্যালয়ে বাউন্ডারি ওয়াল, আটটিতে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ এবং পাঁচটিতে অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের কাজ শুরু হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা অসমাপ্ত রয়ে গেছে। তদুপরি, কাজের অগ্রগতি ৩০ থেকে ৫০ শতাংশের বেশি না হলেও বিল উত্তোলন করা হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত।
সরেজমিনে অনিয়মের চিত্র

এ ছাড়া লাউহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ শুরু না হলেও তথ্যপত্রে দেখানো হয়েছে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ। মীর কুমুল্লীতে নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পরপরই দেয়াল ভেঙে পড়েছে। জাঙ্গালিয়ায় ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করেই ঠিকাদার সরে গেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, কাজের মান নিন্মমানের। কোথাও আবার দেয়াল নির্মাণের পরই ধসে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে থাকছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত থাকায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
মীর কুমুল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্লব কুমার কর্মকার বলেন, বাউন্ডারির দেয়াল শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়েছে। গেটও তৈরি করছে না। শিশুরা ভয় পাচ্ছে, স্কুলের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জাঙ্গালিয়ার প্রধান শিক্ষক শওকত আকবর বলেন, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে। বারবার জানালেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি।
লাউহাটির প্রধান শিক্ষক সেলিনা বেগম জানান, জমি জটিলতার কারণে কাজ শুরু হয়নি। ইউএনওকে জানালেও ব্যবস্থা নেয়নি। বাউন্ডারি না থাকায় বিদ্যালয় ঝুঁকিতে রয়েছে।
মেসার্স হৃদয় এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রহিজ বলেন, বিভিন্ন কারণে কাজ দেরি হয়েছে। মাটি বরাদ্দ না থাকায় দেয়াল ভেঙে পড়েছে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে।
দেলদুয়ার উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী রুহুল আমীন বলেন, কাজ করেই বিল দেওয়া হয়েছে। কোন কাজ কত শতাংশ হয়েছে তথ্য অফিসে পাওয়া যাবে।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আহমেদ তানজীর উল্লাহ সিদ্দিকী দাবি করেন, আমার সময়ে অগ্রীম বিল দেওয়া হয়নি। আগের কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার আগে সব বিল দিয়ে গেছেন। কাজ বন্ধ থাকায় ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, বিগত সরকারের সময়ে ঠিকাদাররা প্রভাব খাটিয়ে অগ্রীম বিল তুলে নিয়েছে। অনিয়ম প্রমাণ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিক, টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তরুণ ইউসুফ বলেন, এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
জে আই