দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০১৮ সালে দেশের সর্বকনিষ্ঠ এমপি প্রার্থী হিসেবে শেরপুর-১ আসন থেকে নির্বাচন করা ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা এবারও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ হযরত আলী কারাগারে থাকার কারণে ওই নির্বাচনে প্রিয়াঙ্কাকে প্রার্থী করে বিএনপি। বাবার তুমুল জনপ্রিয়তা ও চৌকষ নেতৃত্বে ভীত কাঁপিয়ে দেয় সেই সময়ের আওয়ামী লীগ দুর্গের। সেই নির্বাচনে দুপুর ১২টার মধ্যে ৩৫ হাজার ভোট পেলেও কারচুপির অভিযোগ এনে অবশেষে ভোট থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
এদিকে সোমবার দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় নারী কোঠায় দলের সভানেত্রীর সঙ্গে থাকা দশ নারীর মধ্যে প্রিয়াংকার নাম ওঠে আসায় আবারও ২০১৮ সালের নির্বাচনের সেই প্রতিবাদি চিত্র চোখে ভাসছে শেরপুরের মানুষের মনে।
স্থানীয়রা বলছেন, দেশে এবার সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে সংসদে যাবেন তিনি। এদিকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই শেরপুরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বইছে। চলছে নির্বাচনী প্রচারণা।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলীয় ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষে ও আগামী জাতীয় নির্বাচনে মানুষের প্রতি জনসমর্থন আদায় করতে মাঠে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হামলা-ভাঙচুর উপেক্ষা করে তীব্র প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ করে সারাদেশে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে চষে বেড়িয়েছেন দীর্ঘ সময়। দল তার জনপ্রিয়তার মূল্যায়ন করেছে। তবে মনোনয়ন বঞ্চিতদের নিয়ে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই নির্বাচনী পরিকল্পনা করা হবে।
এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও শেরপুর-১ আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা বলেন, আমি ২০১৮ সালে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে শেরপুর-১ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলাম। সেই সময় আমি শেরপুর সদরের সর্বস্তরের মানুষের চোখে মুখে ধানের শীষের জনপ্রিয়তা ও ভালোবাসা দেখেছি। এক ঘণ্টা সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষ যে পরিমাণ ভোট আমাকে দিয়েছিল তা দেখেই বুঝা যায় তারা ধানের শীষ এবং আমাকে কতটা ভালোবাসে। তারই পরিক্রমায় এবারও আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এজন্য আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমি এই মনোনয়ন পেয়েছি। ২০১৮ সালে আমি সমস্ত বাংলাদেশে প্রতিবাদ করে ভোট কারচুপির প্রতিবাদ করেছিলাম।
তিনি মনোনয়ন বঞ্চিতদের উদ্দেশে বলেন, একটি আসনে অনেকগুলো প্রার্থী থাকতে পারে। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল বিধায় এখানে প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে। আমাদের এখানেও একাধিক প্রার্থী ছিল। আমি বিশ্বাস করি প্রত্যেকটি প্রার্থীই ধানের শীষকে ভালোবাসে এবং মন থেকে দলটাকে করে। কেন্দ্র যেহেতু আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে আমি বিশ্বাস করবো বাকি সকল প্রার্থীরা আমাকে সহযোগিতা করবেন এবং ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন। ইনশাআল্লাহ শেরপুর সদর আসন থেকে এবার আমরা ধানের শীষকে বিজয়ী করবো।
নারী কোঠায় প্রার্থীতায় আলোচনায় আসার ব্যাপারে তিনি বলেন, নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ তাদের জন্য আমার আলাদা কিছু পরিকল্পনা থাকবে। সেই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কৃষি খাতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়াও বড় বড় প্রকল্পে নারীদের বেশি অংশগ্রহণ করার সুযোগ তৈরি করা হবে।
এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, গতকাল দলের মহাসচিব শেরপুরের তিনটি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। তার মধ্যে নারী কোঠায় প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ওঠে আসা প্রিয়াংকা সবার চেয়ে ভালো অবস্থানে আছেন বলে মনে করি।
তিনি আরও বলেন, নারী নেত্রীর সকল গুণাগুণ তার মধ্যে রয়েছে। আমরা আশা করি প্রিয়াংকা সর্ব্বোচ্চ পরিমাণ ভোট পেয়ে রেকর্ড অর্জন করবে। আগামী নির্বাচনে শেরপুরের তিনটি আসনই বিএনপির হবে।
আরএ