দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দিনাজপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের ‘উপ-খাদ্য পরিদর্শক’ পদের লিখিত পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির চেষ্টার অভিযোগে এক পরীক্ষার্থীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় পাঁচটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, একাধিক সিম কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড এবং নকল স্ট্যাম্প জব্দ করা হয়।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে দিনাজপুর শহরের কসবা এলাকার কেরী মেমোরিয়াল হাইস্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।
পরীক্ষাকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণকান্ত রায় নামে এক পরীক্ষার্থী পরীক্ষার সময় বারবার কাশি দিতে থাকেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও দেহ তল্লাশি করেন। এসময় তার কাছ থেকে দুটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।
কৃষ্ণকান্ত রায় বিরল উপজেলার সিঙগুল পূর্ব রাজারামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দিনাজপুর শহরের ফকিরপাড়া এলাকার একটি ছাত্রাবাসে ভাড়া থাকতেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, ঢাকার একটি চক্রের সহায়তায় তিনি পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির চেষ্টা করছিলেন।
তিনি আরও জানান, পরীক্ষা শুরুর এক থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে চক্রের কাছে পাঠানো হতো। এরপর শহরের ফকিরপাড়া ও সুইহারি এলাকার দুটি ছাত্রাবাসে অবস্থানরত কোচিং সেন্টারের কয়েকজন শিক্ষক প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের পাঠিয়ে দিতেন। প্রশ্নের সেট ‘পদ্মা’ হলে কাশি দেওয়ার মাধ্যমে সংকেত দেওয়া ছিল তার দায়িত্ব। সেই সংকেত দেওয়ার সময়ই তিনি ধরা পড়েন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুপুর ২টার দিকে দিনাজপুর শহরের ফকিরপাড়া এলাকার স্বপ্নচূড়া ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন—মো. সবুজ ও মামুনুর রশিদ মামুন, দুজনই স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের কাছে আগেই তথ্য ছিল, পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার হতে পারে। বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে এক পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে ধরা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস এম হাবিবুল হাসান বলেন, জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত এক পরীক্ষার্থীকে আমরা হাতেনাতে ধরেছি। তার ভাইকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। পুরো চক্রটি শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনায় দিনাজপুরে নিয়োগ পরীক্ষার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে আরও কঠোর নজরদারি চালানো হবে।
জে আই