দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ময়মনসিংহে শহিদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দৃশ্যমান ফ্যাসিস্টদের গ্রেপ্তার এবং শহিদ ও আহত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।
রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুর থেকে শুরু হওয়া অনশন কর্মসূচি দ্বিতীয় দিনেও ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে অব্যাহত রয়েছে।
অবস্থান কর্মসূচির আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে শহিদ ও আহত সেল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং বিপ্লবী জুলাই যোদ্ধা ময়মনসিংহ বিভাগ। বিপ্লবী জুলাই যোদ্ধার ব্যানারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ময়মনসিংহ বিভাগীয় সমন্বয়ক আল নূর (মোহাম্মদ আয়াস) আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন এবং অনশনে জেলার বিভিন্ন উপকূলীয় ও গ্রামীণ স্থান থেকে শহিদ পরিবার ও আহতরা যোগ দেন।
আল নূর বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও দৃশ্যমান বিচার দেখছি না। প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের দোসররা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার চাই।
অনশনে অংশ নেওয়া শহিদ পরিবারের নারী সদস্যরাও বৃষ্টির মধ্যে স্লোগান দেন এবং ন্যায়বিচার দাবিতে একযোগে প্রতিবাদ করেন। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার শালচূড়া গ্রামের শহিদ শাহাদাত হোসাইনের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বলেন, আমি হত্যার ঘটনায় ঢাকায় এবং শ্বশুড়ির বিচার পাওয়ার জন্য শেরপুর আদালতে মামলা করেছি। কিন্তু এখন স্থানীয় একজন বিএনপি নেতা আমাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। মামলায় আওয়ামী লীগের এক নেতা গ্রেপ্তার হলেও শেরপুর আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে গেছে।
সোনিয়া আরও জানান, মামলাটি চাপা পড়তে দেওয়া হবে না এবং তারা ন্যায়বিচারের জন্য দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।
অবস্থান থেকে জানানো হয়, শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চন্দন কুমার পাল গ্রেপ্তার হওয়ার ১৮ দিন পর জোর করে জামিনে মুক্তি পেয়ে শহিদ পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছেন। আমরণ অনশনে অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসনের অংশীদারিত্ব ছাড়া এ ধরনের জামিন সম্ভব নয় বলে দাবি করেন।
এনসিপি ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এটিএম মাহবুবুল আলম অনশনে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও জুলাই যোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন; এটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার পরিচয়।
তিনি যোগ করেছেন, আমরাও চাই—আওয়ামী দোসরদের গ্রেপ্তার এবং জুলাই যোদ্ধা ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা দ্রুত নিশ্চিত করা হোক।
অনশনে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শহিদ পরিবার ও আহতরা অংশ নিয়েছেন এবং বিচার না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান চলবে বলে তারা জানিয়েছেন। অনশনরত সদস্যরা দ্রুত কার্যকর তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও শহিদ পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অনশনকারীরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন এবং জনগণ ও মানবাধিকার সংগঠনের দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন।
জে আই