দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত। উপকূলজুড়ে বইছে ঝড়ো হাওয়া, চলছে ভারি বর্ষণ। এ অবস্থায় পায়রা ও মোংলাসহ সব সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য বন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত মাছ ধরার ট্রলার বন্দরে আশ্রয় নিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া না থাকায় সাগরে নামতে না পেরে হতাশ হয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা।
ইলিশ মৌসুম শুরুর আগেই ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না। তার ওপর দফায় দফায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাল ফেলতে না পারায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি হামিদ জানান, “অবরোধের পর আমরা এখনো লাভের মুখ দেখিনি। বাজার করে সমুদ্রে নামলেই এক-দুই দিন পর আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। কোনো উপায় না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়। একদিন আগে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার বাজার নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু ৩৫ হাজার টাকার মাছ নিয়ে ফিরেছি।”
জেলেদের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন আড়তদার ও মৎস্য ব্যবসায়ীরাও।
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, টানা নিষেধাজ্ঞা, দফায় দফায় অবরোধ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চার বছর ধরে ব্যবসার মুখ দেখছেন না তারা। এ অবস্থায় লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে এই পেশায় টিকে আছেন, কেউ কেউ আবার পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সকাল থেকে ট্রলারগুলো ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগর বারবার উত্তাল হচ্ছে। এতে জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর ফলে উপকূলজুড়ে কয়েকদিনের জন্য ঝড়ো হাওয়া ও ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
জে আই/আরএ