দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নিয়ম ভেঙে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৩৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আট বছর পর ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের পূর্বের দায়িত্বে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিষয়টি সামনে আসলে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। শাস্তিমূলক এই ব্যবস্থার কারণে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে।
২০১৮ সালে প্রাচীন পৌরসভাকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে উন্নীত করেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এরপরপরেই কার্যক্রম চালাতে নিয়ম ভেঙে কর্মকর্তাদের দেওয়া হয় পদোন্নতি। বিভিন্ন মহলে যা নিয়ে তখনও সৃষ্টি হয়েছিল সমালোচনা। তবে রাজনৈতিক প্রভাবে চলতি পদে বহাল থাকেন কর্মকর্তারা। গত ১১ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে নিয়ম ভেঙে পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম মিয়াকে দুইধাপ নিচে নামিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল হক, জীবন কৃষ্ণ সরকার, জসিম উদ্দিন, শফি কামাল, জিল্লুর রহমানকে একধাপ নিচে নামিয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী করা হয়। এছাড়া প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এইচকে দেবনাথ, প্রধান হিসাব রক্ষক অসীম কুমারসহ ৩৩ কর্মকর্তাকে পূর্বের পদে ফিরে যেতে আদেশে বলা হয়। এ ঘটনার পর আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন কর্মকর্তারা। প্রত্যেকের রুমের সামনের নেম প্লেট খুলে ফেলেন। এতে ভাটা পড়েছে চলমান বিভিন্ন কাজে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পদ ফিরে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
নির্বাহী প্রকৌশলীর (যান্ত্রিক) দায়িত্ব পালন করা মো. শাফি কামাল বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তখন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) থেকে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পেয়ে ছিলাম। কিন্তু এখন একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আমাদের দায়িত্ব খর্ব করা হয়েছে। এতে আমরা মানসিক ও সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পদ ফিরে পেতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সিটি করপোরেশনের সকল কাজ আমরা করে যাচ্ছি, এতে কোনো স্থবিরতা হচ্ছে না।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য বিভিন্ন কর্মকর্তারা পদ দখল করে রাখায় সিটি করপোরেশনে প্রত্যাশীত টেকসই উন্নয়ন হয়নি বলে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইয়াজদানী কোরায়শী কাজল বলেন, উপসহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী না হয়ে নিয়ম ভেঙে এক ধাপ এগিয়ে অনেককে নির্বাহী প্রকৌশলী করা হয়েছিল। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে অভিজ্ঞতারও ঘাটতি দেখা যায়। এর বড় প্রমাণ হলো, হাতে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ। যা নিয়ে আমরা বারবার কথা বলেছি।
গণসংহতি আন্দোলন ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রাজীব বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সবক্ষেত্রেই দুর্নীতি ভরপুর ছিল। এতে যেমন রাজনীতি ব্যক্তিরা জড়িত ঠিক তেমনি আমলারা। সিটি করপোরেশনে আজকে যাদেরকে চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ক্ষমতা এবং চেয়ারের অপব্যবহার করেছে। এখন দেখা যাচ্ছে তাদেরকে চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ায় উন্নয়ন কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দ্রুত এসব পদে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা হোক।
এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মোখতার আহমেদ বলেন, সহকারী প্রকৌশলীকে চলতি দায়িত্ব দিলে নেক্সট পদ হচ্ছে নির্বাহী প্রকৌশলী। তবে পদোন্নতির ক্ষেত্রে একই ব্যক্তিকে নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়া হয়েছে তার কিছুদিন পর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেওয়া হয়েছে। এটা নিয়মের ব্যত্যয়। পরিপত্রে বলা আছে কাউকে যদি চলতি দায়িত্ব দিতে হয় মেয়রের সভাপতিত্বে একটা মিটিং হবে তারপর তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে; কিন্তু সেই দায়িত্ব ছ'মাসের বেশি নয়। আবার তাকে দায়িত্ব দিলে আবারও মিটিং হবে।
আরএ