দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]
যশোর শহরের দড়াটানা থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত ৪২টি ল্যাম্পপোস্ট রয়েছে। কিন্তু এর একটিতেও বাতি জ্বলে না। অন্যদিকে দড়াটানা মোড় থেকে সিভিল কোর্ট মোড় পর্যন্ত রয়েছে ২৪টি এবং দড়াটানা থেকে গরীবশাহ মাজার পর্যন্ত ৮টি পোস্ট। সেগুলোও অচল হয়ে পড়ে আছে।
কোনোটির লাইট স্ট্যান্ড ঝুলে রয়েছে, কোনোটির লাইট নষ্ট, আবার কোনোটির লাইট হাওয়া। এর বাইরেও দড়াটানা থেকে কাঠেরপুল পর্যন্ত ৩৩টি ল্যাম্পপোস্টের মধ্যে মাত্র হাতে গোনা ৩টি লাইট সচল। মসজিদ গলি, ঝালাইপট্টি হয়ে গোহাটা রোডের ল্যাম্পপোস্টগুলোর হালও একই রকম। একই অবস্থা জেল রোড, নওয়াপাড়া রোড ও সেন্ট্রাল রোডেরও।
দড়াটানা ও টাউন হল মাঠের দুটি সার্চ লাইটে কিছু এলাকা আলোকিত থাকলেও বাকি সব এলাকায় থাকে ভূতুড়ে অন্ধকার। শহরের পাড়া-মহল্লার অবস্থা আরও করুন!
একদিকে বাড়ছে চুরি-ছিনতাই, অন্যদিকে ভূতুড়ে অন্ধকারে পায়ে হেঁটে চলাচল দূরের কথা, যানবাহনে চলাচলও দুষ্কর হয়ে পড়েছে শহরবাসীর জন্য।
অন্যদিকে, লাইট নেই অজুহাত দিয়ে কর্মচারীরা বসে আছেন। লুজ কালেকশনও ঠিক করছেন না তারা। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কারও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। বিষয়টি নিয়ে পৌর কর্মচারীদের চরম অবহেলা আছে বলে দাবি করছেন শহরবাসী।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় সরেজমিনে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড বারান্দিপাড়া লিচুতলা, বাঁশতলা, নাথপাড়া শহরের চৌরাস্তা পর্যন্ত গিয়ে দেখা যায়, সবগুলো লাইটই বন্ধ। বিশেষ কওে সংবেদনশীল এলাকা ঝালাইপট্টির সড়কটি দেখে বোঝা যাচ্ছিল না, সেটা সড়ক, না জঙ্গল। দেখা যায় চৌরাস্তার মোড়ের একটি ল্যাম্পপোস্টে একটি লাইট জ্বলছে। চৌরাস্তা রেলরোডের অধিকাংশ লাইটও বন্ধ রয়েছে। চৌরাস্তা থেকে কাপুড়িয়া পট্টি হয়ে কালীবাড়ি মোড় পর্যন্ত আটটি ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও সবকটিই বিকল।
শহরের অন্যতম বাণিজ্যিক স্থান কাঠেরপুল এলাকা গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত। মাংস ব্যবসায়ীদের কয়েকজন ব্যক্তিগত উদ্যোগে লাইট জ্বালিয়ে রেখেছেন। কাঠেরপুলের অপর প্রান্ত থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রবেশমুখ পর্যন্ত সবকটি লাইট বিকল। কাঠেরপুল থেকে দড়াটানা মোড় পর্যন্ত ৩৩টি ল্যাম্পপোস্ট তার মধ্যে শোরুমের সামনে একটি, জব্বার অ্যান্ড সন্সের পাশের একটি ও দড়াটানা মোড়সংলগ্ন একটি লাইট জ্বলছে। বাকি ৩০টি লাইটই নষ্ট।
এছাড়া শহরের স্টেশনারি মার্কেট এলাকা খ্যাত জামে মসজিদ লেনে ৫টি ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও সবগুলোর লাইটই বন্ধ পাওয়া যায়। দড়াটানা মোড় থেকে গরীবশাহর মাজার পর্যন্ত গিয়ে দেখা যায় সাতটি ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও সবগুলোই বিকল। দড়াটানা থেকে মুজিব সড়ক হয়ে সিভিল ডলফিন চত্ত্বও পর্যন্ত পৌরসভার সব লাইট বিকল। এছাড়া শহরের মাইকপট্টি, লালদীঘিরপাড়, জজ কোর্ট মোড়ের চিত্র একই।
শহরের প্রবেশপথ নিউমার্কেট ও প্রাণকেন্দ দড়াটানা শুধুমাত্র দুটি সার্চ লাইট আলো দিচ্ছে , অন্যান্য এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত। বিশেষ করে ঘোপ নওয়াপাড়া রোডসহ অত্যন্ত সংবেদশীল জোন জেলা সরকারি খাদ্য গুদামও ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢুবে আছে।
ঘোপ সেন্ট্রাল রোড, বেলতলা, পাইপপট্টি রোড, টিবি ক্লিনিক, বেজপাড়া, কাজীপাড়া, শংকরপুরের বিভিন্ন রোডে অধিকাংশ লাইটই নষ্ট।
এসব বিষয়ে পৌরসভাকে বারবার অবহিত করলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয় না বলে দাবি স্থানীয়দের।
তারা বলছেন, সন্ধ্যার পর থেকেই নানা অপরাধীরা অন্ধকারাচ্ছন্ন বিকল ল্যামপোস্ট স্পটগুলোতে অবস্থান নিয়ে চুরি ছিনতাই চাকুমারামারিসহ হত্যারমত অপরাধ করে পার পেয়ে যায়। কোনো লাইট না থাকায় অপরাধীদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়ে যায় এলাকাগুলো। জানমাল নিয়ে এসব এলাকা দিকে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। মাদকের বিকিকিনি ও দুর্বৃত্তায়ন রোজকার রুটিন হয়ে উঠেছে। বড়বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন , শহরে ব্যাপকভাবে চুরি বেড়েছে। রাতে কোটি কোটি টাকার মালামাল রেখে যেতে হয় তাদের কিন্ত নিরাপত্তায় নেই কোনো লাইটিং ব্যবস্থা। পৌরসভাকে বারবার বললেও তারা কোনো কর্ণপাত করেন না।
কারও কারও দাবি এগুলো পৌরসভার লোকজনের গাফিলতি ছাড়া আর কিছুই না। লাইট সবই একেবারে নষ্ট এমনটি নয়। অনেক লাইটই ভালো রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ‘লুজ কানেকশন’ আছে। কিন্তু পৌরসভা থেকে কেউই এগুলোর মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করেন না। অতি সম্প্রতি ঝড় বৃষ্টির পর থেকে শহরটি একেবারে অন্ধকার হয়ে গেছে। পৌরসভাকে সমস্যার কথা জানালে উল্টো অশোভন আচরণ করেন।
এ বিষয়ে বিদ্যুতের দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ার সাইফুজ্জামান তুহিন বলেন, শহরে ৯ হাজার লাইট রয়েছে; তার মধ্যে ৫ হাজার লাইট সচল রয়েছে। এছাড়া প্রাণকেন্দ্রে ৬০০ লাইটের মধ্যে ৪০০ লাইট ভালো রয়েছে।
যদিও সরেজমিনে তার কথার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, পর্যাপ্ত লাইট তাদের মজুদে নেই। কিছু লাইট এসেছে; তারা কাজ শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায় লাইট নেই সেটা সঠিক। তবে, এটাও সত্য তাদের কাছে পর্যাপ্ত লাাইটও নেই। সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যেই লাইটের সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে। পর্যায় ক্রমে সমগ্র পৌর এলাকায় লাইট স্থাপন করা হবে। এছাড়া কেউ দায়িত্ব অবহেলা করছে কিনা সে বিষয়েও নজর রাখা হবে।
শহরবাসীর অভিযোগ, প্রায় এক যুগ ধরেই একই কর্মকর্তার হাতে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্ব। অন্যান্য কর্মচারীরাও যুগের পর যুগ ধরে কাজ করছেন। দায়িত্ব অবহেলা করলেও জবাবদিহিতা না থাকায় উদাসিনতা আয়েশে পরিণত হয়েছে তাদেও কাছে। পৌরবাসী পৌরসভার শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা ও সংশ্লিষ্ঠ পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্ব অবহেলার বিচার দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, যশোর পৌরসভার বিদ্যুত বিভাগে ২১জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনের স্থায়ী চাকরি। মাস্টাররোলে রয়েছেন ১৬জন। সুইচ অপারেটর রয়েছেন তিনজন। ওই ২১ জনের মধ্যে তিনজন সুপারভাইজার ৯টি ওয়ার্ড দেখাশোনা করেন। তারা হলেন- সুপারভাইজার ফারুখ হোসেন , সাজ্জাদ হোসেন ও রুবেল হোসেন। তাদের নিয়ন্ত্রনে চলে মিস্ত্রি ও হেলপাররা। এই পুরো বৈদ্যুতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ২১ জনের প্রধান হচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ার সাইফুজ্জামান তুহিন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে কর্মরত রয়েছেন। তার অধিনস্তরা অধিকাংশই তুহিনের আগ থেকে পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগে কাজ করে আসছেন।
কে