দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবজাতক কন্যাকে ফেলে পালালেন মা। ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর মান্দা উপজেলায়।
এ ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শিশুটির বাবা তৌহিদ ইসলাম (২৫)। ইতোমধ্যে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
তৌহিদ ইসলাম নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চকহরি বল্লভ গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে মান্দার সাহাপুর গ্রামের লছের আলী মণ্ডলের মেয়ে সাথী আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি।
তৌহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী সাথী আক্তার গত তিন মাস ধরে বাবার বাড়িতে ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) প্রসববেদনা উঠলে খবর পেয়ে তিনি শাশুড়ি ও স্ত্রীকে নিয়ে তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে যান। বিকেল পাঁচটার দিকে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে স্ত্রী একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। চোখে-মুখে আনন্দ আর প্রত্যাশা নিয়ে সদ্যজাত কন্যার বাবার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত ছিলেন তৌহিদ। কিন্তু হঠাৎই ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
তৌহিদ আরও জানান, “সন্তান জন্মের পর চিকিৎসকের পরামর্শে আমি ওষুধ আনতে বাজারে যাই। ফিরে এসে দেখি, স্ত্রী ও শাশুড়ি নবজাতককে ফেলে রেখে চলে গেছেন। বিষয়টি আমার কাছে অত্যন্ত অমানবিক মনে হয়েছে। আমি হতবাক ও দিশেহারা হয়ে পড়েছি।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সাথী আক্তার বলেন, “বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও তার পরিবারের সঙ্গে আমার মনোমালিন্য চলছিল। আমি সন্তান নিতে চাইনি। এখন যেহেতু আমি স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করব না, তাই সন্তানও পালন করব না।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ মা ও মেয়ের সিদ্ধান্তকে অমানবিক বলছেন, আবার কেউ ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের দায়ে নিরপরাধ শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
মানবিক প্রশ্ন জাগছে—মাত্র কয়েক ঘণ্টার জীবনের পরই যার আপনজনের স্নেহ পাওয়ার কথা, সেই শিশুটি আজ অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। নবজাতকের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধ জাগ্রত হবে কি না—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনসুর রহমান জানান, “তৌহিদ ইসলামের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। সাথী আক্তার জানিয়েছেন, তিনি স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করবেন না এবং সন্তান লালন-পালনেও আগ্রহী নন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আরএ