দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সমুদ্রে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের কারণে বঙ্গোপসাগরের পটুয়াখালীর উপকূল কয়েক দিন ধরে উত্তাল। থেমে থেমে হচ্ছে বৃষ্টিও। এমন পরিস্থিতিতে মাছ না পেয়ে খালি হাতে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে আলিপুর ও মহিপুর মৎস্য বন্দরে শত শত ট্রলার আশ্রয় নেওয়া জেলেদের সঙ্গে কথা হলে এ তথ্য জানা যায়।
তারা জানায়, মৌসুমী বায়ু ও নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। তাই সাগরে টিকতে না পেরে পটুয়াখালী উপকূলের অন্যতম মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুর খাপড়াভাঙা নদীতে আশ্রয় নিয়েছে জেলারা।
জানা গেছে, ইলিশ মৌসুমের শুরুতেই সামুদ্রিক মাছ আহরণের ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা উঠলেও দফায় দফায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে আশানুরূপ ইলিশের দেখা পায়নি জেলেরা। সব মিলিয়ে হতাশ উপকূলের কয়েক হাজার জেলে। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন। আবার অনেকেই দাদন নিয়ে বাধ্য হয়ে এ পেশাই পড়ে আছেন।
বিএফডিসি মার্কেট আলীপুর মৎস্য বন্দরের ব্যবসায়ী কামাল হাওলাদার বলেন, ৫৮ দিনের মৎস্য অবরোধ শেষেই সাগরে শুরু হয়েছে দফায় দফায় নিম্নচাপ। যে কারণে সাগর থেকে ট্রলার নিয়ে বারবার জেলেরা ঘাটে ফিরে আসছে। ফিরে আসা ট্রলারগুলোর প্রত্যেকটিতে কয়েক লাখ টাকার বাজার করে সাগরে পাঠাতে হয়। কখনও নিম্নচাপ, কখনও লঘুচাপ, সব মিলিয়ে বড় রকমের ক্ষতির মধ্যে ট্রলার মালিকরা।
এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি নুরু খা বলেন, অবরোধের পর এখন পর্যন্ত লাভের মুখ দেখিনি। বাজার সওদা করে যখনই সমুদ্রে নামি দু-একদিন ফিশিং করার পরই আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। কোনো উপায় না পেয়ে আবার ঘাটে ফিরে আসি। গত দুদিন আগে ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকার বাজার নিয়ে গেছি। মাত্র ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার মাছ নিয়ে ফিরে এসেছি। এভাবে চলতে থাকলে এ পেশা ছেড়ে দিতে হবে।
তবে মৎস্য ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, একদিকে বৈরী আবহাওয়া অন্যদিকে দফায় দফায় অবরোধ সব মিলিয়ে জেলেসহ আড়তদাররা বিপাকে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত চার বছর ধরে ব্যবসার মুখ দেখিনি। ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা যেতে না যেতেই ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত আবার অবরোধ। লাখ লাখ টাকা দাদন দেওয়া। এভাবে চলতে থাকলে এ পেশায় টিকে থাকা যাবে না।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরা ট্রলারগুলো সকাল থেকে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্র বারবার খারাপ হচ্ছে।
আরএ