দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুয়েল সাংমার বিরুদ্ধে স্থানীয় এক যুবককে নিজ হাতে লাঠি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক নিন্দার ঝড় উঠেছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ২০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, আটপাড়া ইউএনও ভিড়ের মধ্যে এক যুবককে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশও ছিলেন। মারপিটের সময় ইউএনও নিজেও একসময় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ভিডিওতে ধরা পড়া ঘটনাটি গত ২৪ মার্চের। ওই দিন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বানিয়াজান ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণ চলছিল। অতিরিক্ত ভিড় আর ধাক্কাধাক্কিতে ইউএনও উত্তেজিত হয়ে এই ঘটনাটি ঘটান। লাঠিপেটার শিকার যুবকের নাম দুর্জয় (১৮), তিনি ওই ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের শহীদ মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় মোবারকপুর গ্রামের রায়হান আহমেদ জানান, ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা করতে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইউএনও রুয়েল সাংমা, জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস ও বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদ কে ফোন করেও কথা বলা যায়নি। ইউএনও হোয়াটসঅ্যাপে একটি অঙ্গীকারনামার কপি পাঠিয়েছেন, যেখানে দুর্জয়ের নামে লেখা ছিল, ‘আমি ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি চাল বিতরণ কাজে বাধা সৃষ্টি করেছি। প্রথমবারের মতো মাননীয় ইউএনও স্যারের কাছে ক্ষমা চাই।’ এতে বেশ কিছু বানানের ভুল ছিল।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনেরা সরকারের কর্মকর্তা এমন আচরণে ক্ষুব্ধ। জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম সোহাগ ভিডিও শেয়ার করে বলেন, ‘প্রশাসনের ইমেজ রক্ষার জন্য ইউএনওকে দ্রুত ইনস্ট্যান্ট ওএসডি করা উচিত এবং আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।’
নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফসা ইসলাম মোহ ইউএনওকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘আপনি কি নিজে হাতে এমন কাজ করতে পারেন? আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে আপনার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য কামনা করি, আর না হলে অগ্রিম বিদায়ী শুভেচ্ছা।’
এই ঘটনার ব্যাপারে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদ চলমান রয়েছে।
এফএইচ/এমএইচ