দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক আন্দোলন বন্ধ করতে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
একজনের সঙ্গে তার কথোপকথনের ভিডিওটি রোববার (১০ আগস্ট) ছড়িয়ে পড়ে। দেড় মিনিটের ওই ভিডিওতে আফতাব হোসেন রিফাত নামের একজনকে নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে মেসেঞ্জারে কলে কথা বলতে দেখা যায়, যেটি অন্য একটি ফোনে ভিডিও করা হয়।
শুরুতে আফতাব হোসেন বলেন, ‘যদি মীর ভাইয়েরা আন্দোলন বন্ধ না করে তখন কী করব?’ জবাবে নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আন্দোলন বন্ধ করাব। তোমারে দিছে, টাকা দিছে?’ এই পাশ থেকে ‘হ্যাঁ ভাই’ জবাব দেন আফতাব। তখন নিজাম বলেন, ‘কত দিয়েছে, কত লাখ?’ এমন প্রশ্নে আফতাব বলেন, ‘পাঁচ।’ এরপর নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আন্দোলন বন্ধ করার জন্য।’ তখন আফতাব বলেন, ‘হ্যাঁ।’ নিজাম এরপর বলেন, ‘আরও বেশি নিতা প্রেসার দিয়ে।’ তখন আফতাব বলেন, ‘না ভাই, আমার তো ফ্যামিলি মেম্বার, কিভাবে বলি?’ নিজাম বলেন, ‘এখন কি আন্দোলন বন্ধ করতে হবে?’ তখন আফতাব বলেন, ‘উনারা তো বললেন এমনই।’ নিজাম বলেন, ‘তোমরা দেখো ওর থেকে আরও পাঁচ লাখ নিতে পারো কি না, নিতে পারলে ওদেরকে আমি এনে, রোহান, মীরদেরকে এনে কিছু একটা দিয়ে দিলাম।’
তখন আফতাব বলেন, ‘কত?’ নিজাম বলেন, ‘টেন। উনাদের কাছে এত ছোট ডিমান্ড করতেছ কেন? তুমি বিষয়টা জানাবে না আমারে?’ এরপর আফতাব ‘জানাচ্ছি’ বলে ফোন রেখে দেন।
জানা গেছে, এই আফতাব হোসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক নেতা বলে জানিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে এনসিপি চট্টগ্রাম নগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিন জানান, ভিডিওটি সাত-আট মাসের আগের। যে ভিডিও করেছে তিনি এ বিষয়ে একটি বক্তব্য দেবেন। তার বক্তব্যে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
তিনি ভিডিওর কথাটি নিজের স্বীকার করে বলেন, ‘আফতাবকে জোর করে বাধ্য করেছে আমার সঙ্গে এমন করে কথা বলতে।’
এদিকে ভিডিওর বিষয়ে আফতাব হোসেন রিফাত বলেন, ‘বন্দরকেন্দ্রিক ইস্যু নিয়ে প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে আমাকে নিয়ে। ঘটনাটা শুরু হয় গত মে মাসের ৩০ তারিখ থেকে। জয় নামে একজন আমাকে ফোন দিয়ে ডেকে নেয়। সঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ জনকে নিয়ে এসে মারধর শুরু করে। এরপর নিজাম ভাইকে কল দিতে বলে। এরপর তারা জোরপূর্বক ভিডিওটি করে। নিজাম ভাইয়ের সঙ্গে আমরা সবসময় এমন দুষ্টামি করি। নিজাম ভাই ভাবছে, দুষ্টামি করে চাঁদার কথা বলছি। নিজাম ভাইও আমার কথার প্রেক্ষিতে কথা বলেছেন।’
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক রাসেল আহমেদের নেতৃত্বে ‘বন্দর রক্ষা আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন মহানগরের কাস্টমস মোড়ে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইস্যুতে মিছিল ও সমাবেশ করে।
জানা গেছে, গত ৫ জুলাই নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন এক নারী। চিঠিতে ওই নারী উল্লেখ করেছিলেন, দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় পুলিশে দিয়েছেন নিজাম উদ্দিন। নিজাম তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম নগর শাখার সদস্যসচিব ছিলেন। অভিযোগের পর তার পদও স্থগিত করা হয়। এরপর অবশ্য তাকে পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
/অ