দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ স্কুল মাঠে অস্ত্র প্রশিক্ষণের অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে সায়দাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নজরুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন। তারা বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদদাতাকে বিভ্রান্ত করেছে এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। “সায়দাবাদ স্কুল মাঠে আওয়ামীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ সাবেক সেনা কর্মকর্তার” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
তারা আরও বলেন, "আমরা দেশের জন্য বহু বছর সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের দ্বারা কখনোই এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্ভব নয়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমাদের নাম, পরিচয় এবং সাবেক সেনা পদমর্যাদাকে ব্যবহার করে আমাদের সম্মানহানি করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এই সংবাদ শুধু আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করেনি, বরং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সম্মানও ক্ষুণ্ন হয়েছে।"
এসময় সাংবাদিকদের মাধ্যমে তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী মামুন কবির বলেন, “আমি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত স্কুলে পাহারায় থাকি। এমন কোনো ঘটনা চোখে পড়েনি। এমন কাজ করার সাহস কারও হবে না।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠে বা কক্ষে অস্ত্র প্রশিক্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তাকর্মীও আমাদের এমন কিছু জানায়নি। বিদ্যালয়ের পরিবেশ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অনুপযোগী।”
এছাড়া এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও জানানো হয়, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার আলো ছড়িয়েছে বহুদিন ধরে। এ বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে অনেকেই উচ্চশিক্ষা, সরকারি চাকরি ও বিদেশে সাফল্য অর্জন করেছেন। এমন প্রতিষ্ঠানে অস্ত্র প্রশিক্ষণের অভিযোগ অবাস্তব এবং মানহানিকর।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মাসুদ মিয়া, সিরাজুল হক, দুলাল মিয়া, মামুন মিয়াসহ প্রায় শতাধিক স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় “রাতের আঁধারে আওয়ামীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ সাবেক সেনা কর্মকর্তার” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা সদস্যকে জড়িয়ে বিতর্কিত অভিযোগ তোলা হয়। এ ঘটনারই প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এফএইচ/