দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁর পত্নীতলায় নজিপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কারিগরি শিক্ষকদের দিয়ে সাধারণ (জেনারেল) শ্রেণির পাঠদান করানো নিয়ে শিক্ষক সমাজে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন কারিগরি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেওয়া হলে কিছু শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মণ্ডলের কক্ষে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং উল্টো শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীমুজ্জামান মিলন ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে আসা স্থানীয় সাংবাদিকরাও হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠে।
সাংবাদিক হেনস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মন্ডল বলেন, “তখন মাথা ঠিক ছিল না। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বিষয়টি ঘটে গেছে।” তিনি আরও জানান, “বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকায় কারিগরি শিক্ষক দিয়ে জেনারেল শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি চলছে।”
জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহাদত হোসেন বলেন, “এ বিদ্যালয় নিয়ে এর আগেও তদন্ত করে মীমাংসা করে দিয়েছিলাম। আজকের ঘটনাটিও তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় হতবাক শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি। শিক্ষকরা যদি মারামারি করেন, তাহলে আমাদের শিক্ষা কোথায় যাবে?” অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এফএইচ/