দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে একই পরিবারের ৭ জন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৬ আগস্ট) ভোরে চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজার সংলগ্ন এলাকায়, লক্ষ্মীপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে।
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান প্রবাসী বাহার উদ্দিনের স্ত্রী কবিতা আক্তার (২৪), মেয়ে মীম আক্তার (২), ভাতিজি রেশমা আক্তার (৯), লামিয়া ইসলাম (৮), মা মোরশেদা বেগম (৫০), নানি ফয়জুন নেছা (৭০) ও ভাবি লাবনী আক্তার (২৫)। নিহতরা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী এলাকার বাসিন্দা।
বেঁচে ফিরেছেন বাহার উদ্দিন, তার বাবা আব্দুর রহিম, শ্বশুর ইস্কান্দার মীর্জা, ভাবি সুইটি আক্তার ও শ্যালক রিয়াজ হোসেন। তারা জানান, ওমান প্রবাসী বাহার উদ্দিনকে আনতে পরিবারের ১১ জন সদস্য মাইক্রোবাসে করে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে চালক ঘুমিয়ে পড়লে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৩০ মিটার গভীর একটি খালে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দুর্ঘটনার পর চালক রাসেল গাড়ির দরজার কাচ নামিয়ে নিজে বের হয়ে যান এবং কাউকে উদ্ধার না করেই পালিয়ে যান। নিহতদের স্বজনরা জানান, চালকের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং তিনি এখনো পলাতক। তারা দ্রুত চালকের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন।
বেঁচে ফেরা আব্দুর রহিম বলেন, আমার স্ত্রী, শাশুড়ি, তিন নাতনি ও দুই পুত্রবধূ পানিতে ডুবে মারা গেছে। চালক না ঘুমালে এই ঘটনা ঘটত না। সে আমাদের ডুবন্ত অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায়।
এদিকে এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি।
বেগমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান লিটন জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ এখনো মামলা করেনি।
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোবারক হোসেন বলেন, পরিবার মামলা করলে সেটি গ্রহণ করা হবে, না করলে পুলিশ নিজ উদ্যোগে মামলা করবে।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে চৌপল্লী কাশারি বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে একসঙ্গে জানাজা শেষে ৬ জনের দাফন সম্পন্ন হয়। বৃদ্ধা ফয়জুন নেছাকে তার নিজ গ্রামের বাড়ি হাজিরপাড়ায় দাফন করা হয়।
/অ