দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

“স্বপ্নে দেখেছি—ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদে সাতশত যোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করছি। নামাজ শেষে যুদ্ধের জন্য বের হলাম, ইজরাইলের দিকে রওনা দিলাম এবং আমার দোয়ায় ফিলিস্তিন স্বাধীন হলো।” এমনই এক স্বপ্নের বর্ণনা দিয়ে ফিলিস্তিনে গিয়ে বাস্তবেই যুদ্ধ করতে চান বলে জানিয়েছেন নওগাঁর সাপাহার উপজেলার এক যুবক।
এরই প্রেক্ষিতে তিনি ফিলিস্তিনে যাওয়ার জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা চেয়ে গতকাল ৩০ জুলাই বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
আবেদনকারী মো. মাহাদী হাসান সাপাহার উপজেলার আলিনগর গ্রামের বাসিন্দা। ৩০ জুলাই ২০২৫ তারিখে ইউএনও বরাবর জমা দেওয়া তার আবেদনে বলা হয়, তিনি স্বপ্নে দেখেছেন যে তিনি ইমাম মাহদীকে আহ্বান করছেন এবং নিজেও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। এই স্বপ্নে পাওয়া "আত্মিক নির্দেশনার" ভিত্তিতেই তিনি ফিলিস্তিনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আবেদনে মাহাদী হাসান লিখেছেন, “আমি এখন বাস্তবেই ফিলিস্তিন যেতে চাই, যেন নির্যাতিত মুসলমানদের রক্ষা করতে পারি। এজন্য আমার বিদেশযাত্রার খরচ ও আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন।”
আবেদনপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা এবং কিছুটা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে ধর্মীয় অনুভূতির চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে একজন অসুস্থ মনের মানুষের আবেগঘন আবেদন হিসেবেই বিবেচনা করছেন।
এ প্রসঙ্গে সাপাহার উপজেলার গোয়ালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান মুকুল বলেন, “মাহাদী হাসান মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন। তার আচরণ ও কথাবার্তা অনেক সময় অসংলগ্ন হয়, যার ফলে তার বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার মতো উপযুক্ততা নেই।”
স্থানীয় সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদও একই অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, “ছেলেটি মাদরাসায় পড়াশোনা করেছে ঠিকই, তবে ছোটবেলা থেকেই তার চিন্তাভাবনায় অসামঞ্জস্যতা দেখা গেছে।”
এ বিষয়ে কথা হলে আবেদনকারী মো. মেহেদী হাসান বলেন, “গত রমজানে আমি স্বপ্নে দেখি, ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদে সাতশত যোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করছি। নামাজ শেষে আমরা যুদ্ধের জন্য রওনা দেই এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করি। আমার দোয়ায় ফিলিস্তিন স্বাধীন হয়ে যায়। এরপর থেকেই মনে হচ্ছিল—এটা কোনো সাধারণ স্বপ্ন নয়, এটা আমার দায়িত্ব। তাই আমি ইউএনও বরাবর দরখাস্ত করেছি, যাতে সরকারি সহায়তা নিয়ে ফিলিস্তিনে যেতে পারি।”
আর্থিক সহায়তার পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি কত টাকা লাগবে, তা জানি না। ইউএনও স্যারই হিসাব করে বুঝে আমাকে টাকা দিলে আমি তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকব।”
পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, “না, আমার এখনো পাসপোর্ট বা ভিসা করা হয়নি। তবে যদি অর্থ সহায়তা পাই, তাহলে প্রথমেই পাসপোর্ট ও ভিসা করিয়ে তারপর রওনা হব।”
মেহেদী হাসান আরও বলেন, “আমি নিজে থেকে কিছু চাই না। আমি স্বপ্নে ইশারা পেয়েছি, তাই এটাকে দায়িত্ব মনে করছি। আল্লাহ যদি আমাকে সেই সুযোগ দেন, তাহলে আমি মুসলমানদের পাশে থাকতে চাই। আমি দেশের আইন মেনে এবং প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই সব করতে চাই।”
সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সেলিম আহমেদ বলেন, “মাহাদী হাসান নামের এক ব্যক্তি দপ্তরে এসে দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না, এবং তার সঙ্গে তেমন কোনো কথাও হয়নি। বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়েছে, যথাযথ পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”
ফিলিস্তিনের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি এবং বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের আবেগগত সংবেদনশীলতার পটভূমিতে এমন ঘটনা অবশ্যই ব্যতিক্রমী। এটি একদিকে যেমন ধর্মীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ, তেমনি মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ একটি সামাজিক প্রতিচ্ছবি।
এফএইচ/