দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নোয়াখালীর চাটখিল থানায় লুট করা অস্ত্র দিয়ে আত্মঘাতী মো. ইমতিয়াজের মৃত্যু নিয়ে ‘জুলাই বাণিজ্য’ ও বিভ্রান্তিকর প্রচারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে চাটখিল আলিয়া মাদরাসা মিলনায়তনে চাটখিল উপজেলা ছাত্র সমাজ আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ইমতিয়াজের বাবা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নিজের সন্তানের মৃত্যু ব্যবহার করে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম রনি।
তিনি বলেন, ইমতিয়াজের মৃত্যুকে শহীদ বানিয়ে তার বাবা হাবিবুর রহমান গেজেটভুক্তির মাধ্যমে সরকারি সুযোগ-সুবিধা আদায় করেছেন। মামলার ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়সহ ৭০-৮০ লাখ টাকা ও 'জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন' থেকে আরও ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে আমরা অভিযোগ করছি।
রনি আরও বলেন, ইমতিয়াজ কোনো ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বরং থানা থেকে লুট করা অস্ত্র কোমরে রেখে পালানোর সময় নিজের গুলিতেই মারা যান। এরপর তার বাবার ‘জুলাই বাণিজ্য’ নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করলে, উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেব।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন একই কলেজের শিক্ষার্থী গোলাপ হোসেন ফরহাদ। তিনি বলেন, যেভাবে কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই ইমতিয়াজও আন্দোলনে অংশ না নিয়েও ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছেন। এটি শহীদদের অপমান এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার। আমরা এর কঠোর তদন্ত ও শাস্তি দাবি করছি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাহা ইয়াসিন, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, এবং চৌমুহনী এস. কলেজের শিক্ষার্থী মো. সামির। এছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ইমতিয়াজের বাবা হাবিবুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে চাটখিল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, ইমতিয়াজের বিষয়টি তদন্তাধীন। আপাতত তার নাম সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগ ও আওয়ামী সরকার পতনের পর চাটখিল থানায় হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ওই সময় হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে ইমতিয়াজ হোসেন রিয়াজ থানা থেকে অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সেই গুলিতে আত্মঘাতী হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
এফএইচ/