দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁয় ট্রাফিক দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কনস্টেবলকে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মারার ঘটনায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুর রহমান রিপনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত রিপনের এই আচরণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।
সোমবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ট্রাফিক দায়িত্বে কর্মরত কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম (সদর ট্রাফিক বিভাগ) তখন ব্যাটারিচালিত এক রিকশাচালককে যানজট নিরসনে সরে যেতে বললে রিপন ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্যে তাকে চড়-থাপ্পড় দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য।
পরদিন (মঙ্গলবার) কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম নিজেই সদর মডেল থানায় মামুনুর রহমান রিপন এবং তার সঙ্গে থাকা আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চড়-থাপ্পড়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, বিএনপি নেতা মামুনুর রহমান রিপন উত্তেজিত ভঙ্গিতে কনস্টেবলকে অপমান করছেন এবং জনসমক্ষে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছেন।
মামলার এজাহারে আমিনুল ইসলাম লিখেছেন, “রিকশাকে সরে যেতে বলায় মামুনুর রহমান রিপন উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। এরপর আমার গালে একাধিকবার চড় মারেন এবং জিজ্ঞাসা করেন আমি কোথায় থাকি। তিনি ও তার সঙ্গীরা আমাকে ‘আওয়ামী দালাল’ আখ্যা দিয়ে নওগাঁ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।”
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “ওই পুলিশ সদস্য নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আমরা ইতোমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের অভিযান চালাচ্ছি। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নওগাঁ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বায়েজিদ হোসেন পলাশ বলেন, “মামুনুর রহমান রিপনের এই আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। এর মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করেছি।”
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মামুনুর রহমান রিপনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় মতে, একটি বড় রাজনৈতিক দলের জেলা পর্যায়ের নেতার কাছ থেকে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। এটি দলীয় শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি। দলীয় অবস্থান স্পষ্ট না হলে সাধারণ জনগণের আস্থা কমতে পারে।
আরএ