দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লায় মুরাদনগরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে ঢুকে তাকে লাথি মেরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতা। ২০ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী তার দপ্তরের চেয়ারে বসে আছেন। তার টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুব আলম মুন্সী। উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে তাঁর তর্কবিতর্ক চলছে। একপর্যায়ে মাহবুব আলম প্রকৌশলীর উদ্দেশে বলেন, ‘আরে বেটা লাইথ্যাইয়া এইখানতে বাইর কইরা দিমু, চিনোস আমারে।’ এ কথা বলার পর প্রকৌশলী বলতে থাকেন, ‘আপনি কী বললেন এটা, আপনি কী বললেন এটা।’ এ সময়ে মাহবুব আলমের সঙ্গে থাকা কয়েকজন তাকে শান্ত করার জন্য কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ নিয়ে জামায়াত নেতা মাহবুব আলম মুন্সী গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি ভিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে। মূল ঘটনাটি হলো উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের বাসকাইট থেকে প্রান্তি বাজার পর্যন্ত সড়কটির খুবই বেহাল অবস্থা। সেই রাস্তার সংস্কারের একটি আবেদন নিয়ে তিনিসহ কয়েকজন উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে যান। কিন্তু তিনি আবেদনটি দেখে গড়িমসি শুরু করেন। প্রকৌশলী বলেন, ‘এটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্ব।’ পরে তিনি তাকে বলেন, ইউএনওই তাদের তার কাছে পাঠিয়েছেন। রাস্তাটির সংস্কার খুবই জরুরি—বিষয়টি বোঝাতে গেলে তিনি রেগে যান। প্রকৌশলী বলেন, ‘যদি রাস্তা ভেঙে পানি জমে, আপনারা গিয়ে বালতি দিয়ে পানি পরিষ্কার করেন।’ এরপর তিনি উত্তেজিত হয়ে যান। একপর্যায়ে তাকে আনসার দিয়ে আটক করার হুমকি দেন। তখন তিনি রেগে গিয়ে ওই কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘পুরো ঘটনার সময় আমাদের প্রায় ১০ মিনিট তর্কবিতর্ক হয়েছে। দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, মাত্র ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। প্রকৌশলী মানুষের সমস্যার কথাগুলো ভালোভাবে শুনে সমাধান করার আশ্বাস দিলে এমন ঘটনা ঘটত না।’
ঘটনাটি দুঃখজনক মন্তব্য করে উপজেলা জামায়াতের আমির আ ন ম ইলইয়াস বলেন, ‘একপক্ষ থেকে তো আসলে কোনো ঘটনা তৈরি হয় না। যা-ই হোক বিষয়টি আমরা ইউএনওর অফিসে বসে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে সুরাহা করেছি। এই ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। এ ধরনের ঘটনা না হওয়াটাই সবার জন্য ভালো।’
এলজিইডির কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল মতিন জানান, মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য না। ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে ইউএনওকে জানানো হয়েছে। পরে তিনি বসে সেটি সমাধান করেছেন।
মুরাদনগরের ইউএনও মো. আবদুর রহমান বলেন, এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি জানতে পেরে তারা ঘটনাটি নিয়ে বসেন। তখন তারা (জামায়াত নেতা) এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। এখন পর্যন্ত ঘটনাটি এ পর্যায়ে রয়েছে।’
কোনো ব্যক্তিই এভাবে কাউকে হুমকি দিয়ে কথা বলতে পারেন না জানিয়ে মো. আবদুর রহমান বলেন, চাইলে ভুক্তভোগী অবশ্যই মামলা করতে পারেন।
এফএইচ