দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁর রাণীনগরে একটি মসজিদ থেকে মাদরাসা ছাত্র তামিম হোসেনের (১০) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের ডাকাহার মুন্সিপুর এলাকার মদিনাতুল উলুম হাফেজিয়া ক্বওমি মাদরাসার মসজিদে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত তামিম হোসেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার খড়েরবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল ইসলামের ছেলে। সে মাদরাসার হিফজ বিভাগে আবাসিক ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় তামিম নামাজে না গিয়ে মাদরাসায় থেকে যায়। দুপুরের খাবারের সময় তাকে না দেখে শিক্ষক ও সহপাঠীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে মাদরাসার ওয়াক্তিয়া মসজিদের ভেতরে তীরের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা। দ্রুত রশি কেটে তাকে নামানো হলেও সে ততক্ষণে নিথর।
মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক রিফাত হোসেন জানান, “তামিম গত কয়েকদিন ধরে জ্বর ও গলায় টনসিলজনিত সমস্যায় ভুগছিল। তবে সে আত্মহত্যা করেছে নাকি অন্য কোনোভাবে এমন অবস্থায় পড়েছে—এ নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই।”
মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের ছাত্র তুষার রানা বলেন, “তামিম খুব মেধাবী ছিল। সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করত। শুক্রবার ছুটি থাকায় আমরা মাঠে খেলতে গিয়েছিলাম, তামিমও আমাদের সঙ্গে ছিল। দুপুরের পরেই ওর মরদেহ পাওয়া যায় মসজিদের ভেতর।”
মাদরাসার মহতামিম (প্রধান পরিচালক) রেজুয়ানুল ইসলাম দুলাল বলেন, “ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম। মাদরাসার এক শিক্ষক ফোনে জানালে দ্রুত ছুটে আসি। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা আমাদেরও বোধগম্য নয়।”
এদিকে, শিশু তামিমের কোনো অভিভাবক ঘটনাস্থলে না থাকায় তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রায়হান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও, তদন্ত ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না। রিপোর্ট পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে অনেক অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে—আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা?
এফএইচ/