দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে সাগর নন্দিনী-২ বিস্ফোরণে ছড়িয়ে পড়া আগুন প্রায় ১১ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।। মঙ্গলবার (৪ জুন) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঝালকাঠির স্টেশন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান চলছে। বিস্ফোরণে জাহাজের মধ্যের অংশ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঝালকাঠি শহরের পৌরসভার খেয়াঘাটসংলগ্ন সুগন্ধা নদীর মধ্যে রাখা জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ শওকত (৩৫) নামের এক পুলিশ সদস্য ও মো. শরিফ (৪০) নামের অপর এক ব্যক্তিকে রাতেই ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। শরিফ দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ থেকে তেল অপসারণের কাজে নিয়োজিত সাগর নন্দিনী-৪ নামে একটি তেলের জাহাজের কর্মচারী। তাদের প্রথমে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে পুলিশ সদস্য শওকতের শরীরের ১৬ শতাংশ ও শরিফের শরীরের প্রায় ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরুজুল হক।
দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে ঝালকাঠি সদর থানার উপরিদর্শক (এসআই) গণেশ চন্দ্র ঘরামির নেতৃত্বে ১১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন নৌ পুলিশের সদস্য। বিস্ফোরণে ৯ পুলিশ সদস্যসহ ১৪ জন আহত হন। তাঁদের অধিকাংশই আতঙ্কে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিকট শব্দে আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি। বিস্ফোরণে দগ্ধ আরেক পুলিশ সদস্য দ্বীপ (৩২) একটু সুস্থ হওয়ায় তাঁকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাগর নন্দিনী-২ জাহাজটিতে প্রায় ১১ লাখ লিটার জ্বালানি তেল (পেট্রল ও ডিজেল) ছিল। সেখান থেকে সাত লাখ লিটার পেট্রোল পদ্মা অয়েল কোম্পানিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। মৃদুলা-৫ এবং সেভেন সিমাক-২ জাহাজের মাধ্যমে ৬ লাখ ৭৫ হাজার লিটার ডিজেল স্থানান্তর করে পদ্মা ডিপোতে সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানায় ডিপো কর্তৃপক্ষ। এরপর সাগর নন্দিনী-২ জাহাজ থেকে পেট্রোল অপসারণের সময় হঠাৎ আগুন লেগে যায়। পরে আস্তে আস্তে পাশে থাকা জাহাজটিতে আগুন লেগে যায়।
এর আগে, গত শনিবার (১ জুলাই) দুপুরে সাগর নন্দিনী-২ তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণে মাষ্টার ব্রিজ ও স্টাফ কেবিনসহ পিছনের ইঞ্জিন রুমের উপরিভাগ নদীতে ডুবে যায়। সুগন্ধা নদীতে এ ঘটনায় ৫ জন আহত ও ৪ জন নিখোঁজ ছিলেন।
পরে রোববার (২ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে জাহাজের পিছনের ইঞ্জিন রুমের ভিতর থেকে গ্রিজার আব্দুস ছালাম হৃদয় নামে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৩ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে প্রথমে জাহাজের সুপারভাইজার মাসুদুর রহমান বেলাল, পরে সাড়ে ১২টার দিকে মাস্টার রুহুল আমিন, দুপুরে ইঞ্জিন ড্রাইভার সরোয়ার হোসেন আকরাম এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।