দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বজ্রাঘাতে দুই জেলায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতুদের মধ্যে চাপাইনবাবগঞ্জে ৪ জন এবং নওগাঁয়ে দুইজন। রোববার (২ জুলাই) দিবাগত রাত ও সোমবার (৩ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিহতরা হলেন- গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভার প্রসাদপুর হটাৎপাড়া গ্রামের মো. আজিজুল হকের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩৫), ভোলাহাট উপজেলার দলদলী ইউনিয়নের চামা মুশরিভুজা গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৬০), একই উপজেলার কৃষক ওমর আলী ও সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মো. জহরুল (৩৫)।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভার প্রসাদপুর হটাৎপাড়া গ্রামের মো. আজিজুল হকের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩৫) নিজ বাড়িতে মোবাইল ফোন চালানোর সময় বজ্রপাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরিবারের লোকজন তাকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোলাহাট উপজেলার দলদলী ইউনিয়নের চামা মুশরিভুজা গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন ধানের জমিতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
অন্যদিকে, আজ সকালে একই সময়ে সদর উপজেলার জামতলা এলাকায় ধানের জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওমর আলী নামের এক কৃষক। তিনি ভোলাহাট উপজেলার বাসিন্দা।
এর আগে রোববার মধ্যরাতে সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া গ্রামে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মো. জহরুল। পরে তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার পথে রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
চারজন নিহতের বিষয়টি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রওশন আলী, সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন, গোমস্তাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ও ভোলাহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের জন্য পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে নওগাঁয় বজ্রঘাতে নিহতরা হলেন- পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দুয়ারপাল গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আব্দুল জব্বার (৩০) ও ধামইরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের মৈশর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মুমিনুল রহমান (২২)।
পোরশা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, রোববার রাত থেকেই হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছিল। ভোরবেলা বৃষ্টিতে ভিজে পুনর্ভবা নদীতে মাছ ধরতে যান আব্দুল জব্বার ও মেহেদী হাসানসহ পশ্চিম দুয়ারপাল গ্রামের বেশ কয়েকজন যুবক। নদীতে নেমে মাছ ধরার সময় সকাল ৬টার দিকে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই আব্দুল জব্বারের মৃত্যু হয়। আহত হন মেহেদী হাসান। পরে স্থানীয়রা মেহেদীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। আব্দুল জব্বারের মরদেহ তার স্বজনরা নিয়ে গেছেন বলে জানান তিনি।
অপরদিকে, ধামইরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, সকাল থেকেই বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। বৃষ্টির মধ্যে কালুপাড়া বিলে আমন ধান রোপণের জন্য পাওয়ার টিলার দিয়ে জহিরুল ইসলাম নামের একজনের জমি প্রস্তুত করছিলেন মুমিনুল রহমান। বেলা ১২টার দিকে তাদের দুজনের ওপর বজ্রপাত এসে পড়লে ঘটনাস্থলেই কৃষক মুমিনুলের মৃত্যু হয় এবং জমির মালিক জহিরুল ইসলাম আহত হন। পরে মুমিনুলের মরদেহ তার স্বজনরা নিয়ে যান। আহত অবস্থায় জহিরুলকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানীয়রা ভর্তি করেন। বর্তমানে জহিরুল সুস্থ আছেন।