দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঈদের আগের দিন থেকে টানা বৃষ্টিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্প এলাকার জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনতিবিলম্বে এ জলাবদ্ধতার পানি অপসারণ করা না হলে ময়লা পানিতে নেমে অবস্থান ধর্মঘট করব বলে জানিয়েছেন নারায়নগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।
রোববার (২ জুলাই) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল পাম্প স্টেশন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
শামীম ওসমান বলেন, ‘আমার এলাকার ৩০-৪০ লাখ লোক এখানে থাকে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ময়লাসহ এমন কোনো বিষাক্ত ময়লা নেই যা এই পানিতে নেই। তারা প্রধানমন্ত্রীর ওপর বিশ্বাস রাখেন, আমাদের ওপরও বিশ্বাস রাখেন। এটা যদি অপসারণ করা না হয় আমি তাহলে ওই ময়লা পানিতে নেমে অবস্থান ধর্মঘটে নেমে যাবো। আমি গলা পর্যন্ত পানিতে নেমে দাঁড়িয়ে থাকবো।’
তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় আমি অসুস্থ থাকায় সেখানে যেতে পারিনি। আমার ছেলেকে পাঠিয়েছি এবং তার টিম নিয়ে এলাকাগুলোতে গিয়েছে। ও এসে আমাকে ছবি দেখিয়ে বললো, মানুষের যে অবস্থা সেখানে জীবনযাপন করা মোটেও সম্ভব না। সেখানে মানুষকে কোরবানি করতে হচ্ছে। আমি কষ্টে ঈদের দিন সারাদিন বের হইনি। কারও সঙ্গে কথাও বলিনি। আমার প্রত্যাশা আছে কারণ পানিসম্পদ উপমন্ত্রী আমাকে কথা দিয়েছেন। কয়েকটা দিন সময় চেয়েছেন। তা নাহলে আমি নিজে যে যে এলাকায় পানি থাকবে সেখানে ময়লা পানিতে নেমে প্রতিবাদ জানাবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিএনডি প্রজেক্টের জন্য ১ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মূলত করোনা ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এই টাকাটা আসতে দেরি হয়ে গেছে। তবে চলতি জুলাই মাসেই টাকাটা আসবে। যেহেতু সেনাবাহিনী কাজটি করবে আমার প্রত্যাশা, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি তারা শেষ করতে পারবে। তাদের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে।’
শামীম ওসমান বলেন, ‘পানির কানেকশনটা সবসময় ড্রেনের সঙ্গে থাকতে হবে। সিদ্ধিরগঞ্জ পুরোটাইতো সিটি করপোরেশনের এলাকা। সিটি করপোরেশনের কাছে আমার অনুরোধ যেন খুব শিগগির সিদ্ধিরগঞ্জের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক করা হয়।’
উল্লেখ্য, ঈদের আগের দিন থেকে টানা কয়েকদিনের বর্ষণে ডিএনডির অভ্যন্তরে সিদ্ধিরগঞ্জ, পাগলা, ফতুল্লা, কুতুবপুর, মুন্সিবাগ, শহীদবাগ, মিজমিজি, কদমতলী, কদমতলী পশিম, কালু হাজী রোড, ধনু হাজী রোড, ফতুল্লার শান্তিধারা, গিরিধারা, জালকুঁড়ি, ভূঁইগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে চরম বিপাকে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।