দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীর মনোহরদীতে গাছ থেকে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় হাফেজ আবুল কালাম (৩২) নামে এক মাদরাসা শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৭ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে শুক্রবার (১৬ মে) দুপুরে গাছ থেকে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় হাফেজ আবুল কালাম গুরুতর আহত হয়।
নিহত আবুল কালাম উপজেলার চালাকচর ইউনিয়নের হাফিজপুর দক্ষিণ পাড়ার আব্দুল আওয়ালের ছেলে। তিনি ৩ কন্যা সন্তানের পিতা এবং স্থানীয় একটি বেসরকারি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ নিহত আবুল কালামের পিতা আব্দুল আওয়ালের সঙ্গে প্রতিবেশি শহীদুল্লাহর জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার (১৬ মে) দুপুরে এই বিরোধপূর্ণ জমির গাছ থেকে আম পাড়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মাঝে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে শহিদুল্লাহ তার পরিবারের লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে আওয়ালের পরিবারের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আউয়াল (৬৫), আউয়ালের বড় ছেলে আবু বাক্কার (৪০), মেজো ছেলে আবুল কালাম (৩২) এবং আওয়ালের পুত্রবধূ হাবিবা (২৮)-সহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়। এসময় স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। আহতদের মাঝে হাফেজ আবুল কালাম শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
নিহতের চাচাতো ভাই শাহজাহান মিয়া জানায়, তার চাচার সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ জমি নিয়ে বিরোধ ছিল শহীদুল্লাহর। আমার চাচাতো ভাইসহ পুরো পরিবারের ওপর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহীদুল্লাহ দলবল নিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এসময় তারা সকলকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আবুল কালাম ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তার বাবার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। আমরা এর বিচার চাই। খুনিদের ফাঁসি চাই।
এদিকে এঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। শহীদুল্লাহ আগেও কয়েক দফা হামলা করে আব্দুল আওয়ালের পরিবারের সদস্যদের আহত করেছে। হাফেজ আবুল কালামের মৃত্যুতে দুপুরে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানায়।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, এ ঘটনায় আবুল কালামের ভাবি শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার দিনই শহীদুল্লাহর স্ত্রী সুমা বেগম ও ছেলে ওমর মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর শহিদুল্লাহকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
আরএ