দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের একমাত্র কয়লা খনি অবস্থিত দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলায়। এই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৩১৫ জন নারী তাদের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে বেঁছে নিয়েছেন কয়লা খনি থেকে নির্গত ময়লাযুক্ত পানি থেকে আসা কয়লার গুড়া সংগ্রহের কাজ। আর এই আয়ে চলে তাদের পরিবার।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির প্রায় ১৬ শত ফিট নিচ থেকে কয়লা উত্তোলনের সময় ভুগর্ভে পানি জমে যায়। সেই পানি বড় বড় পাম্পের মাধ্যমে ওপর তুলে এনে ড্রেনের মাধ্যমে বাইরে নিস্কাশন করা হয়। সেই ড্রেনের মুখের পানিতে থাকা কয়লার গুড়া ধরতে সারাদিন পালাক্রমে কাজ করেন ৩১৫ জন নারী কর্মী।
প্রতিদিন দুই সিফটে ৯০ জন কাজ করেন। সপ্তাহে প্রতি একজন একদিন কাজ করার সুযোগ পায়। টাকা ১২ ঘণ্টা পানিতে থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪ মন কয়লার গুড়া সংগ্রহ করতে পারে একটি দল। স্থানীয় কয়লা ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতিমন ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রয় করেন তারা। এতে প্রতি একজন সপ্তাহে আয় করেন ৩ থেকে ৪ শত টাকা। যা সংসারে প্রয়োজনের চেয়ে অতিনগন্ন । তারপরও পেটের তাগিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন অসহায় এই নারীরা। তারা বলছেন, সরকার যদি আমাদের দিকে একটু সু-দৃষ্টি দেয় তাহলে আমরা অনেক উপকৃত হতাম।
কয়লা সংগ্রহের কাজে সঙ্গে জড়িত নারীরা বলেন, আমরা সপ্তাহে একদিন কাজ করার সুযোগ পাই। যেদিন কাজে আসি সেদিন একটানা ১২ ঘণ্টা কয়লার পানিতে থাকতে হয়। সেটা হউক শীত কিংবা গরম। অনেক পরিশ্রম করি আমরা। বিনিময়ে সপ্তাহের আয় হয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। যা সংসারের প্রয়োজনে একেবারেই অল্প। আমাদের বয়স বিবেচনায় সরকার যদি একটা কাজের ব্যবস্থা করত তাহলে আমরা উপকৃত হতাম।
কয়লা বহনকারী গাড়ী চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি পাশের খাল থেকে প্রতিদিন ৪০ গাড়ী কয়লা তুলে এখানে নিয়ে আসি। আমাদের মতো অনেকেই এইভাবে কয়লা তুলে আনে এবং সেগুলো ভাটাওয়ালাদের কাছে বিক্রয় করা হয়। ভাটাওয়ালারা সেই কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন।
কয়লার গুড়া ক্রেতা মোফাজ্জল হোসেন জানান, মহিলারা কয়লা ড্রেন থেকে যে কয়লার গুড়া তুলছে সেই কয়লা গুলো আমরা ৩০০ থেকে ৩৫০টাকা দরে কিনি এবং আমরা আমাদের জায়গায় রেখে শুকিয়ে সেই কয়লা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত ভাটাওয়ালাদের কাছে বিক্রি করি।
স্থানীয়দের সুত্রে জানা যায, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির আশ পাশের ৪টি গ্রামের ৩১৫ জন নারীদের মধ্যে অধিকংশ স্বামী পরিত্যাক্তা, বিধবা অথবা পরিবারের ছেলে সন্তান থেকে উপেক্ষিত। ১২ ঘণ্টা পানিতে ডুবে থেকে যে স্বল্প আয় হয় তাই তাদের কাছে তাদের কাছে বেঁচে থাকার অবলম্বন হয়ে দাড়িছে।
কে