দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার চাপরাশি বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর দিয়ে চলাচলের রাস্তা নিয়ে চরম বিরোধ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম (৬০) কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একইসঙ্গে, তিনি স্থানীয় ২নং দুর্গাপুর (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়ে সমস্যার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির দাবি জানান।
অভিযোগপত্রে উল্লিখিত অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন— মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে রকি মিয়া (৪০) এবং মাসুম মিয়া (৫০), মৃত হারুন মিয়ার ছেলে তামিম (২৮), আব্দুল জলিলের ছেলে হাকিম (৪০), হায়দার আলীর ছেলে মইদর আলী (৫৫), মৃত মান্নান কবিরাজের ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৪৫), এবং মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে আজাদ মিয়া (৪৫)। সকলেই কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কোতোয়ালী মডেল থানাধীন দুর্গাপুর দক্ষিণ, মধ্যমপাড়া, চাপরাশি বাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সংঘাতে অংশ নেন।
জাহাঙ্গীর আলম তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি এবং বিবাদীগণ একই বাড়ির ও একই গোত্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তারা পৈত্রিক সম্পত্তির বণ্টন অনুযায়ী নিজ নিজ অংশে বসবাস করে আসছেন। পূর্বপুরুষদের তৈরি করা রাস্তা ব্যবহার করেই তারা এবং প্রতিবেশী প্রায় ২০টি পরিবার চলাচল করে আসছে। সরকারিভাবেও পরবর্তীতে এই রাস্তাটি ঢালাই করা হয়। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, রকি মিয়া, মাসুম মিয়া, তামিম, হাকিম, মইদর আলী, ইয়াছিন মিয়া ও আজাদ মিয়াসহ আরও কয়েকজন মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গত ১০মে দুপুরে উক্ত রাস্তাটি টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেন।
জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, তার বড় ছেলে মঈনুল আলম রনি রাস্তাটি বন্ধ করতে দেখলে বাধা প্রদান করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদীরা রনিকে বেধড়ক মারধর করে, কিল-ঘুষি ও অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় শুধু জাহাঙ্গীর আলমের পরিবার নয়, বরং আশেপাশের আরও অনেক পরিবার চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অভিযুক্তরা জোরপূর্বক রাস্তার ওপর দখল কায়েম করে এবং সালিশী বৈঠকের সিদ্ধান্তও মানেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বিবাদীগণ যেকোনো সময় তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে জাহাঙ্গীর আলম আরও জানান, বিবাদীরা তার চাচাতো ভাই এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়ে চেষ্টা করেছেন সুরাহার, কিন্তু কোনও ফল আসেনি। তিনি গ্রাম আদালতের মাধ্যমে উক্ত রাস্তাটি খোলার এবং পরিবারের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, গত ৫ আগস্টের পর আমার জায়গা দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা দখল করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিএনপির দাপট দেখিয়ে পেছনে প্লট করে আমার ক্রয়কৃত জায়গা থেকে রাস্তা চায় এবং না দেওয়ার কারণে আমার পরিবারের ওপর হামলা ও সরকারি রাস্তা আটকিয়ে দেওয়া হয়।
আরেক ভুক্তভোগী ফেরদৌসি বেগম বলেন, আমরা আমাদের চলাচলের রাস্তা চাই। আমাদের একমাত্র চলার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অতি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত মাসুম মিয়া এবং রকি মিয়া বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
এদিকে, এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়ভাবে সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনানুগ পদক্ষেপ ও চলাচলের রাস্তা পুনরুদ্ধারে সহায়তা কামনা করেছেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
/অ