দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লক্ষ্মীপুরে মাদরাসা শিক্ষকের নির্যাতনে সানিম হোসেন (৭) নামের এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী আল মঈন ইসলামী একাডেমি নামের একটি কওমি মাদরাসায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
নিহত ছাত্র ওই মাদরাসা হিফজু বিভাগের ছাত্র ও জেলার রায়পুর উপজেলার ২ নং চরবংশী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির ও জয়নবী বেগমের সন্তান।
মাদরাসার প্রধান মাওলানা বশির উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার দুপুরে জোহরের নামাজ শেষে সামির হোসেন নামের হিফজ বিভাগের ছাত্র টয়লেটে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বের না হওয়ায় দরজা ভেঙে দেখা যায় সে গলায় গামছা দিয়ে টয়লেটের ভেতর ঝুলে আছে। শিক্ষকরা তাকে নামিয়ে আনেন ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নিজাম উদ্দিনসহ অনেকেরই দাবি করেছেন এ মাদরাসার শিক্ষকরা ছাত্রদের যৌন নির্যাতন ও শারীরিক নির্যাতন করে থাকে।
গত সপ্তাহে মোহাম্মদ ফরহাদ(১৩) জমি নামের হিফজ বিভাগের এক ছাত্রকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে সালিশ বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা ওমায়েরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তারপরও ছাত্রদের ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
নিহত মাদরাসার ছাত্র সানিমের বাবা হুমায়ুন কবিরের অভিযোগ, তার সন্তানকে পিটিয়ে হত্যা করে ঘটনা আড়াল করতে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি তার শিশু সন্তান হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
লক্ষ্মীপুর সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল হক জানান, ছেলেটিকে গলায় গামছা পেছানো বাথরুমে পাওয়া গেছে, তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, আঘাতের চিহ্ন দেখে মনে হচ্ছে তাকে সকাল বা দুপুরে মারধর করা হয়েছে। মাদরাসা থেকে মাহমুদুর রহমান নামে অভিযুক্ত এক শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নিহত ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল বরগে প্রেরণ করা হয়েছে।
এফএইচ/