দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাতনদী পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. হাবিবুর রহমানকে হত্যা মামলায় জামিন না আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একটি হত্যা মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন।
সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ জানান, হাবিবুর রহমান এর আগে একই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তার আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট সাতক্ষীরার দেবহাটার খলিশাখালী এলাকার ১৩২৮ বিঘার একটি মৎস্য ঘেরে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সন্ত্রাসীরা। এরপর ১ নভেম্বর সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে ওই এলাকায় তল্লাশি চালায়। অভিযানের সময় গণপিটুনিতে নিহত হন কামরুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি। এসময় ১৫টি হাতবোমা, ৫টি দার আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় ৬জনকে ।
ঘটনার কয়েকদিন পর নিহত কামরুল ইসলামের স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এঘটনায় তিনি বাদি হয়ে দেবহাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় জমিজমা মালিকদের পাশপাশি সাংবাদিক হাবিবুর রহমানকেও আসামি করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আব্দুস সাত্তারকে বলেন, মর্জিনা খাতুন একজন অসহায় ও দরিদ্র নারী, যিনি তার স্বামীকে হারিয়েছেন। বর্তমানে তিনি সন্তানদের নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে মর্জিনা খাতুনের স্বামীর হত্যা মামলার আসামির জামিন না মঞ্জুর করতে আবেদন করেছি। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
এদিকে সাতনদী পত্রিকার সহ-সম্পাদক আব্দুর রহমানসহ পত্রিকা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা বলেন, হাবিবুর রহমানকে মিথ্যে ও হয়রানিমুলক মামলা ফাঁসানো হয়েছে। সাংবাদিকরা অবিলম্বে সাতনদী সম্পাদকের হয়রানিমুলক মামলা প্রত্যাহার পূর্বক মুক্তি দাবি করেছেন।
সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান বলেন, হাবিবুর রহমানকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পথে কতিপয় ব্যক্তি তাকে মারধর করে লাঞ্চিত করেন। যা সাংবাদিক সমাজকে মর্মাহত করেছে।
এফএইচ/