দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাংবাদিককে সাজা দেওয়া ইউএনওকে বদলির এবার দশদিনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন সাতক্ষীরার সাংবাদিক রোকনুজ্জামান টিপু। বুধবার (৮ মে) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস মামলার বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষে তাকে অব্যাহতি দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা জজকোর্টের আইনজীবী খায়রুল বদিউজ্জামান জানান, গত ২৪ এপ্রিল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে টিপু জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ৫ মে ওই মামলার বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। বুধবার শুনানি শেষে বিচারক রিপন কুমার বিশ্বাস তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
ঘটনা ও মামলার বিবরণে জানা যায়, ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা প্রশাসনের একটি ভবন নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে ২২ এপ্রিল সরেজমিন তথ্য জানতে চান কালের কন্ঠের তালা উপজেলার সাংবাদিক রোকনুজ্জামান টিপু । এ সময় তাকে ছাতা দিয়ে মারধর করেন উপসহকারী প্রকৌশলী এম এম মামুন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। খবর পেয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এস এম মামুন, ঠিকাদার ও ঠিকাদারের শ্রমিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা শুনে সাংবাদিক টিপুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল। পাশাপাশি ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। হতভম্ব হয়ে পড়েন তালা, সাতক্ষীরা ও দেশের সাংবাদিকরা। সারাদেশের সাংবাদিকরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েন।
সাংবাদিক টিপুর সঙ্গে এ ঘটনার প্রতিবাদে ২৩ এপ্রিল সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ২৪ এপ্রিল অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে ঘেরাও করা হয় সাতক্ষীরা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়। আন্দোলনের মুখে ২৪ এপ্রিল দুপুরে টিপুকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জামিনে মুক্তি দেন।
তালার সাংবাদিক শেখ ইমরান জানান, সাংবাদিক টিপু যখন হামলার শিকার হন তখন সাংবাদিকরা ভেবেছিল দুর্নীতিবাজ উপসহকারী প্রকৌশলী এস এম মামুনকে অন্তত সতর্ক করবেন এবং কিছু না কিছু ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে ইউএনও উল্টো সাংবাদিক টিপুকে দশদিনের জেল ও অর্থদন্ড দিয়ে কার্যত দুর্নীতি ও অনিয়মের পক্ষ নেন ইউএনও রাসেল। আর তারই পক্ষ নিয়ে কতিপয় সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা দুর্নীতির পক্ষে মানববন্ধন করে। তাতে অংশ নেন কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্থদের সুবিধাভোগী আরও কতিপয় ব্যক্তি। তাতে আরও বিপদাপন্ন করে তোলে ইউএনও শেখ রাসেলকে। এরপরই সাংবাদিক রোকনুজ্জামান টিপুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া তালার ইউএনও শেখ মো. রাসেলকে গত সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রংপুর বিভাগে বদলি করা হয়েছে। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যহতি পেয়েছেন সাতক্ষীরার সাংবাদিক রোকনুজ্জামান টিপু। এঘটনাকে তিনি ন্যায়ের পক্ষে বিজয় মনে করেন। তিনিসহ তালাও নাগরিকনেতৃবৃন্দ ২২ এপ্রিলের ঘটনার মুলখলনায়ক ও দুর্নীতির বরপুত্র উপসহকারী প্রকৌশলী এস এম মামুনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অবিলম্বে শাস্তিমুলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
এফএইচ