দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রায় ১৩ বছর বন্ধ থাকার পর কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে চালু হতে যাচ্ছে মল্লিকা সিনেমা হল। নতুন সিনেমা ‘প্রিয়তমা’ দিয়ে নতুন রূপে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে হলটি। গতকাল বুধবার সকালে মল্লিকা সিনামা হল চত্বরে গিয়ে মানুষের আনাগোনা ও উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে।
সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার আমায়তাড়া বাজার এলাকায় জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা মল্লিকা সিনেমা হলটি সংস্কারের কাজ করছেন কয়েকজন শ্রমিক। সত্যি কি সিনেমা হল চালু হতে যাচ্ছে? বিষয়টি স্বচক্ষে দেখার জন্য বিনোদনপ্রেমীদের বেড়েছে ভিড়। সিনেমা হলের ভেতরে দর্শকদের চেয়ারগুলো নেই। দক্ষিণ পাশে নারীদের বসার জায়গার অবস্থা বেহাল। এগুলো সংস্কারের কাজ চলছে।
দেয়ালের পলেস্তারা খুলে পড়েছে। সিনেমা হলের ভেতরে মেঝের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে বড় বড় গর্ত। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির আসনগুলো দেখে মনেই হবে না যে এখানে একসময় দর্শকদের কোলাহল ছিল। ঈদকে সামনে রেখে কয়েকজন যুবকের চেষ্টায় প্রাণ পেতে শুরু করেছে মল্লিকা সিনেমা হল।
মল্লিকা সিনেমা হলের মালিকের ছেলে দেওয়ান মাজেদুল ইসলাম সায়েম বলেন, ‘বাবা মরহুম এমদাদ আলী দেওয়ান ১৯৮৬ সালে মল্লিকা সিনেমা হল চালু করেন। ২০১০ সালে হলটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৩ বছর পেরিয়ে গেছে। ভাঙারির দোকানে কেজি দরে বিক্রি করতে হয়েছে প্রজেক্টর ও চেয়ার।’
সায়েম আক্ষেপ করে বলেন, ‘কখনো ক্লিনিক আবার কখনো ভাঙারির দোকান ভাড়া দিতে হয়েছে এখানে। এখন কিছুই নেই। শুধু বাবার স্মৃতিবিজড়িত সিনেমা হলের ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে। দর্শকদের অনুরোধে আবার নতুন করে কুরবানি ঈদে প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করছি।’
কৈগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, ‘একসময় এই সিনেমা হলে কতই যে ছবি দেখেছি, তার কোনো হিসাব নেই! কখন কোন সিনেমা আসছে—তা জানতে প্রতিদিন প্রচার-প্রচারণার মাইকের অপেক্ষায় থাকতাম। সেই যে বন্ধ হলো, আর সিনেমা দেখা হয়নি।’ লোকমুখে সিনেমা হলটি চালু হবে জানতে পেরে একনজর দেখার জন্য ছুটে এসেছেন ওমর ফারুক।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লুইসার আহমেদ বলে, ‘মা-বাবার মুখে সিনেমা হলে ছবি দেখার অনেক গল্প শুনেছি। কিন্তু কখনো সিনেমা হলে বসে থেকে সিনেমা দেখা হয়ে ওঠেনি। মল্লিকা সিনেমা হলটি ঈদের দিন উদ্বোধন হবে জানতে পেরে দেখতে এসেছি। মা-বাবার সঙ্গে ছবি দেখতে আসার ইচ্ছে আছে।’
পৌর কমিশনার আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বিনোদনপ্রেমী প্রতিটি মানুষের জীবনে আবেগ অনুভূতি ছড়িয়ে আছে মল্লিকা সিনেমা হলকে ঘিরে। ছাত্রজীবনে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখার মজাটাই ছিল আলাদা! সুস্থ বিনোদন ফিরে এলে মোবাইলের ওপর আসক্তি ও বিভিন্ন ধরনের নেশা থেকে তরুণ–যুবকেরা রেহাই পাবে।’