দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মানিকগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও সাবেক পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খানসহ ২১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৫ মে) দুপুরে মানিকগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি মেহেরাব হোসাইন এ মামলাটি করেন। মামলায় আরও ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতনামাকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ১৮ জুলাই সকাল ১০টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতা মানিকগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ১নং ভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু করে। খালপাড় ব্রিজের কাছে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর আক্রমণ চালায়। ধারালো রামদা, চাপাতি, লোহার রড, হাতুড়ি ও ককটেলের ভয়াবহতায় মুহূর্তেই শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই হামলায় মো. আরমান হোসাইন, হাসনা হেনা, মাহফুজ হোসাইন, তন্ময়সহ বহু আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন। আরমান ও হাসনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ব্রিজের ওপর ফেলে নির্মমভাবে কুপিয়ে ফেলা হয়। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালাতে বাধ্য হয়।
হামলার পর শিক্ষার্থীরা মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের মানরা এলাকায় জড়ো হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ চালাতে থাকলে, পুনরায় হামলার নেতৃত্বে এগিয়ে আসেন সাবেক মন্ত্রী জাহিদ মালেক ও সাবেক এসপি গোলাম আজাদ খান। আওয়ামী ঘরানার পুলিশের সহায়তায় দ্বিতীয় দফায় চালানো হয় গুলি ও বোমার হামলা। এতে আবারও বহু শিক্ষার্থী আহত হন।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় ছিল আহতদের চিকিৎসা বঞ্চনা। মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও কর্ণেল মালেক মেডিকেলে ছাত্রলীগ-সমর্থিত ডাক্তার ও কর্মীরা আহতদের চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের একাংশ পরে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।
এ ঘটনায় ছাত্রসমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
এফএইচ/