দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন বিধৌত লোনা উপকূলের ফলনগুলোই যেনো সোনা। সাতক্ষীরার আম, কুল সব কিছুই যেনো বাংলাদেশের সব এলাকার থেকে সেরা। না এলে না খেলে কেউ আসলে বুঝতে পারবেন না দক্ষিণ পশ্চিম জনপদের এই মাটির সব ফলনের স্বাদ গন্ধই কতটা অনন্য। এখানকার পণ্য বিশেষ করে হিমসাগর আমের জিআই করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং সাতক্ষীরা আমগবেষণা কেন্দ্র হওয়া উচিত। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসন গবেষণায় সবাইকে উৎসাহিত করা হবে। সাতক্ষীরায় বহুল প্রতীক্ষিত আমপাড়া উৎসবের উদ্বোধন উপলক্ষে আমচাষীদের সঙ্গে কথোপকথনে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ এসব কথা বলেন।
ডিসি মোস্তাক আহমেদ আমকে জাতীয় ফলের প্রস্তাব আনা যায় কি না সেটিও সবাইকে ভাবতে অনুরোধ জানান।
জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে সোমবার (৫মে) বেলা ১১টায় সদর উপজেলা ফিংড়ি ইউনিয়নের আমচাষি বিল্লাল হোসেনের আম বাগান থেকে আম পাড়ার মধ্য দিয়ে আম সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহম্মেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেনসহ অন্যান্যরা।
মাটির গুণাগুণ ও আবহাওয়ার কারণে সাতক্ষীরার আম দেশের অন্য এলাকার তুলনায় আগে পরিপক্ক হয়। ফলে আমের ভালো দাম পান এই অঞ্চলের কৃষকরা। চলতি মৌসুমে আমের গুণগত মান বজায় রেখে নিরাপদে আম বাজারজাত করতে প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জেলায় আম সংগ্রহ ও বাজারজাত কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, সাতক্ষীরার আমের কদর রয়েছে দেশ ও বিদেশে। তাই গুণগত মানের এই আম সংগ্রহের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেঁধে দেওয়া হয়েছে নির্ধারিত সময়। আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ৫ মে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, বোম্বাই, গোপালখাস ও বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের আম এবং ২০ মে হিমসাগর, ২৭ মে ল্যাংড়া আম, ৫ জুন আম্রপালি আম সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারও ইউরোপ ও এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটে আম পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, রপ্তানীকারকরা জানিয়েছেন এমৌসুমেও একশ মেট্রিক টনের বেশি আম রপ্তানি করা হবে।
এদিকে জেলায় আম বিক্রির একটি মাত্র বাজার হওয়ায় জায়গা স্বল্পতার কারণে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের। সে কারণে শুধু সুলতানপুর বড়বাজার নামের একটি বিক্রয় কেন্দ্রের ওপর নির্ভর না করে আরও বাজার তৈরির দাবি কৃষকদের। আমচাষীরা পিটিআই মাঠ সহ সাতক্ষীরার কয়েকটি স্থানকে আমের পাইকারী কেনাবেচার হাট তৈরীর জন্য দাবি করেন। একই সঙ্গে এই চাষাবাদে দাদনবাজদের কালো হাত থাকার কথাও উল্লেখ করেন আমচাষীরা।
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা প্লাবণী সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আমপাড়ার উদ্বোধনী উৎসব ও আলোচনা সভায় আলোচনা করেন আমচাষী বেলাল হোসেন, কমলেষ সরকার ও আবুল কালাম আজাদ।
এফএইচ/