দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এককভাবে মিয়ানমারকে মানবিক করিডোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে দেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। কারণ এটি অনেক বড় সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের শান্তি-স্থিতিশীলতার বিষয়টি জড়িত।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের শেখবাজার এলাকায় গণসংযোগকালে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটা খবর দেখে খুব চিন্তিত হলাম। খবরে দেখলাম, আমাদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ সাহেব বলেছেন, আরাকানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আমরা একটা হিউম্যানিটারিয়ান প্যাসেজ (মানবিক করিডোর) দিচ্ছি। অর্থাৎ চট্টগ্রামের এদিক দিয়ে আরাকানে যোগাযোগের জন্য তারা এই প্যাসেজ দিচ্ছে। ভালো কথা—এটা মানবিক, দরকার আছে। কিন্তু আমার কথা হলো—বাংলাদেশকে আজ ওই জায়গায় পৌঁছাতে হলো যে বাংলাদেশকে মানবিক প্যাসেজ দিতে হচ্ছে।
এটা একটা বড় সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের শান্তি-স্থিতিশীলতা জড়িত আছে। সরকারের উচিত ছিল, দায়িত্ব ছিল বিষয়টি নিয়ে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলা। এটা না করে সরকার এককভাবে প্যাসেজের কথা বলে জায়গা দিচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষকে সাহায্য করার ব্যাপারে আমাদের আপত্তি নেই। জাতিসংঘ উদ্যোগ নিলে তাতে সাহায্য করার ব্যাপারেও আপত্তি নেই। কিন্তু এটা হবে সব মানুষের সমর্থনের ভিত্তিতে। আমরা আরেকটা গাজায় পরিণত হতে চাই না। আমরা আরেকটা যুদ্ধের মধ্যে জড়াতে চাই না। আমাদের এখানে এসে কেউ গোলমাল করুক—সেটা চাই না। এমনিতেই রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমরা বড় সমস্যায় আছি। তার ওপরে এই প্যাসেজ দেওয়ায় যদি আরও কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়—তাই আরও আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল বলে আমি মনে করি।
সংস্কার ও নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, সংস্কার কী আমি বুঝি না। আমি বুঝি গণতন্ত্র। আমি বুঝি মানুষের অধিকার। ইউনূস সরকারের প্রধান দায়িত্ব একটা নির্বাচন করা। সবাই মিলে আমরা অধ্যাপক ইউনুস সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, দেশের স্বার্থে, মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে নির্বাচন দেওয়া আপনাদের প্রধান কর্তব্য। সংস্কারের পাশাপাশি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা আপনাদের উচিত। নির্বাচনের সঠিক দিনক্ষণ ও সঠিক রোডম্যাপ দেন অতি শিগগিরই। এ দেশের মানুষ তাদের নিজস্ব সরকার দেখতে চায়। বর্তমানে এমপি নাই, সমস্যা হলে কার কাছে যাবেন। এ জন্য আমরা বারবার করে বলছি, সংস্কারটাও হোক, নির্বাচনটাও হোক।
সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাফরুল্লাহ, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিন বক্তব্য দেন।
আরএ