দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগ উঠেছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের টিকটকার মাহফুজা আক্তারের (২২) বিরুদ্ধে। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারের মতামত নেওয়াসহ ভিডিওটি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে আপলোড করায় তিনজন সাংবাদিকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ওই টিকটকার।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দর্শনা থানায় এ বিষয়ে জিডি করা হয়। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন এবং সংবিধান অনুযায়ী যেকোনো ধরনের জুয়া খেলা বেআইনি এবং অপরাধ। জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার-প্রচারণার জন্য কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উলটো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে জিডি গ্রহণ করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পরই সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীরা হলেন- ঢাকা পোস্টের চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ও দৈনিক মাথাভাঙ্গার স্টাফ রিপোর্টার আফজালুল হক, দৈনিক মাথাভাঙ্গার দর্শনা বুর্যো প্রধান হারুন রশিদ রাজু, অনলাইন নিউজ পোর্টাল নীলকণ্ঠের ডেস্ক ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন, জীবননগরের তুহিন উজ্জামান, মুহাম্মদ শাওমিন ও সাদিকুল ইসলাম।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেনের মেয়ে টিকটকার মাহফুজা আক্তার ১ মিনিট ২ সেকেন্ডের জুয়ার ভিডিও তৈরি করে নিজের টিকটক আইডিতে আপলোড করেন। এরপর থেকে আলোচনায় আসে এই টিকটকার।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আফজালুল হক বলেন, গত পহেলা বৈশাখের দিন জেলা প্রশাসন থেকে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে গণমাধ্যামকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ওই অনুষ্ঠানে টিকটকার মাহফুজা আক্তার নৃত্য পরিবেশন করেন। নাচের ভিডিওটি আমার নিজস্ব পেজ ‘রেডিও চুয়াডাঙ্গার’ ফেসবুক পেজে আপলোড করা হয়। এরপর থেকেই জুয়ার বিজ্ঞাপনটি যে নৃত্য পরিবেশন করা ওই মেয়েটিই করেছেন সেটা প্রকাশ্যে আসে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি একাধিক ব্যক্তি আমার নিকট জানালে আমি সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশে গত ১৫ এপ্রিল ওই তরুণীর মুঠোফোনে জুয়ার বিজ্ঞাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপরই পুলিশ সুপারকে জানালে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। তবে তাকে কোনো প্রকার হুমকি দেওয়া হয়নি। যা আমার নিকট ওই তরুণীর পুরো কথোপকথন সংরক্ষিত আছে।
সাংবাদিক আফজালুল হক বলেন, নিষিদ্ধ জুয়ার প্রমোটকারী হয়েও বক্তব্য নেওয়ার কারণে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করলেন। পুলিশ স্বাচ্ছ্যন্দে তা গ্রহণ করেছেন। এটা দুঃখজনক।
ভুক্তভোগী সাদিকুল ইসলাম বলেন, উপযুক্ত বিচারের দাবিতে আমি জুয়ার বিজ্ঞাপনের ভিডিওটি নিজ আইডিতে আপলোড করেছিলাম। একজন জুয়ার অ্যাপ প্রোমোশনকারীর আইনের আওতায় আনার পরিবর্তে জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। আশা রাখি চুয়াডাঙ্গার পুলিশ বাহিনী বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না। সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে দোষীকে উপযুক্ত শাস্তি দেবে।
এদিকে, বক্তব্য নেওয়াকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় জিডির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা বলছেন, সংবাদ প্রকাশের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট্যদের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকের দায়িত্ব। সেজন্য কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি হতে পারে না।
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি বলেন, আমাদের দাবি থাকবে, জুয়ার বিজ্ঞাপনকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ ধরনের ঘটনায় আমরা মর্মাহত। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি প্রত্যাহার করতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে দর্শনা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো।
আরএ