দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় প্রায় আট বছর ধরে ঝুলে আছে নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের বিচার। হত্যাকাণ্ডের র্দীর্ঘ ১১ বছরে ধরে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে হতাশ হয়ে পড়েছেন নিহতদের স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা। জীবদ্মশায় এই আলোচিত হত্যা মামলার রায় দেখে যেতে পারবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে অনেকে।
আজ নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুনের ঘটনার ১১ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকা থেকে অপহরণ করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও আইনজীবি চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক মো. ইব্রাহীমসহ সাতজনকে। অপহরণের তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীর শান্তিরচরে তাদের লাশ ভেসে উঠলে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে। সে-সময় নৃশংস এ হত্যাকান্ড দেশব্যাপী আলোচিত হয়ে উঠে৷ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় আলাদা দুটি মামলা দায়ের করেন। তদন্তে বেড়িয়ে আসে সিটি কর্পোরেশনের আরেক কাউন্সিলর নুর হোসেনের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে র্যাব চেক পোষ্ট বসিয়ে সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করে শীতলক্ষ্যা নদীতে।
পরে আদালতে আসামীদের স্বীকারোক্তি, জবানবন্দি ও স্বাক্ষ্যগ্রহন শেষে ঘটনার ৩৩ মাস পর জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারী রায় প্রদান করেন। রায়ে নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন ও র্যাব-১১ চাকুরিচ্যুত তিন কর্মকতা লেফটেনেন্ট কর্ণেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লেফটেনেন্ট কমান্ডার এম এম রানাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদন্ড ও অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়য়াদে সাজা প্রদান করে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৮ সালে ২২ আগস্ট হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদন্ডের আদেশ বহাল রেখে ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং বাকি নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করেন। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই মামলার বিচার দ্রুত গতিতে এগিয়ে যায়। কিন্ত আসামী পক্ষ সুপিম কোর্টের আপিল বিভাগে রায়েরে বিরুদ্ধে আপিল করলে এই মামলাটি গতি হারিয়ে যায়। দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে মামালাটি বিচারকাক্র কাজ।হত্যাকান্ডের র্দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে হতাশ হয়ে পড়েছেন নিহতদের স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা। তাদের এখন একটাই দাবি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সহযোগীতা করলে আপিল বিভাগে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তিসহ রায় কার্যকর হবে বলে মনে করেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
নির্মম হত্যাকাণ্ড ১১ বছরেও বিচারের রায় কার্যকর না হওয়ায় হতাশ মামলার বাদীও। সাত খুনের বিচারের রায় কার্যকর না হলে খুনিরা পার পেয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে আপিল বিভাগের দ্রুত রায় ও বিচার কার্যকরে প্রধান উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলাটি মহামন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধান থাকা অবস্থায় খুনের সাথে বিপদগামী র্যাব সদস্য ও প্রভাশালী কাউন্সিলর র্দীঘদিন ধরে হত্যাকান্ডের বিচারে যাতে না হয় সে জন্য নানা চেষ্টা ও তদবির চালিয়ে আসছে বলে দাবি করেন সাত খুন মামলার নিন্ম আদালতের আইনজীবি। এই হত্যাকান্ডের বিচার কাজ শেষ করার জন্য সরকারের সদিচ্ছ প্রয়োজন জানান তিনি।
সাত খুনের ঘটনায় জড়িত খুনিরা ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি- মন্ত্রীদের সহযোগী ও আত্মীয় স্বজন হওয়ায় এতোদিন বিচার বিলম্বিত হয়েছে বলে দাবি মানবাধিকার কর্মীদের।
আলোচিত এ হত্যা মামলাটি উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ দ্রুত নিষ্পত্তিসহ খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের দাবি স্থানীয়দের।
কে