দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের অব্যাহত আন্দোলনের মুখে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন কালের কণ্ঠের তালা উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক রোকনুজ্জামান টিপু। জামিন চেয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আপিল করেন টিপুর আইনজীবী ও সাংবাদিক এড. খায়রুল বদিউজ্জামান। এসময় সাংবাদিক নেতাদের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করা হয়।
এর আগে সাংবাদিক রোকনুজ্জামান টিপুর মুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জী, চ্যানেল আইয়ের আবুল কালাম আজাদ, দেশ টিভি ও বিডি নিউজের শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, আজকের পত্রিকার আবুল কাসেম. কালের কণ্ঠের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মোশাররফ হোসেন, মানবজমিনের এসএম বিপ্লব হোসেন, মফঃস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহম্মেদ আবু জাফর প্রমুখ।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, তালা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে ভবন তৈরির কাজে অনিয়ম দুর্নীতির খবর পেয়ে ২২ এপ্রিল (মঙ্গলবার) তথ্য সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক টিপু। তথ্য চাওয়ায় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা উপজেলা উপসহকারি প্রকৌশলী মামুন হোসেন তাকে ছাতা দিয়ে মারপিট করেন। একপর্যায়ে টিপু আত্মরক্ষার্থে হামলাকারীকে ধাক্কা দেন। পরে টিপু ও মামুনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এসময় টিপু বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেলকে অবহিত করার আধঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে এসে উপসহকারি প্রকৌশলী মামুন ও ঠিকাদারের নিয়োজিত লোকজনের মুখে একতরফা ঘটনা শুনে নিয়ম বহির্ভুতভাবে সাংবাদিক রোকনুজ্জামানকে ১০ দিনের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করেন।
শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন অবিলম্বে টিপুর মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল, উপসহকারি প্রকৌশলী মামুন হোসেনসহ হামলা ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অবস্থান কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকরা সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পালের সঙ্গে দেখা করেন। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট রিপন বিশ্বাসের সঙে। তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষে সাংবাদিক টিপুর মুক্তির ব্যাপারে সার্বিক সহায়তা করেন।
প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জী বলেন, সাংবাদিক টিপুর মুক্তি সাংবাদিকদের আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয়। এই আন্দোলন চলবে। সাংবাদিকদের কাজে যখনই বাঁধা আসবে তখনই রুখে দাঁড়াবে সাংবাদিক সমাজ। বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এই দুর্নীতিগ্রস্থ ইউএনওকে অপসারণ ও উপসহকারী প্রকৌশলী মামুনের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা কতদ্রুত নিচ্ছে তা দেখার অপেক্ষায় রইল সাতক্ষীরাসহ সারাদেশের সাংবাদিকরা।
সাংবাদিক টিপু সুলতান বলেন, কাজের মান খারাপ হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমি সেখানে তথ্য সংগ্রহ করতে যাই। এসময় উপসহকারী প্রকৌশলী এমএম মামুন আলম আমাকে কোনো প্রকার সহযোগিতা না করে তার ছাতা দিয়ে মারতে শুরু করে। আমি তাকে প্রতিরোধ করতে গেলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিজেদের অনিয়ম ঢাকতে ইউএনও আমাকে ১০ দিনের জেল ও ২শ টাকা জরিমানা করেন।
তিনি বলেন, সারাদেশের সাংবাদিক সমাজের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে আমার মুক্তি হয়েছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে আমার কলম চলবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে তালা উপজেলা পরিষদ কমপে¬ক্স ভবনের ৯ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক রোকনুজ্জামান টিপু। এসময় তালা উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী এমএম মামুন আলম তথ্য দিতে অস্বীকার করায় সাংবাদিকের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সাংবাদিককে তথ্য জানার কে এমন প্রশ্ন করলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাসেলকে জানালে তিনি সরেজমিনে উপস্থিত শ্রমিকসহ স্থানীয়দের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাংবাদিক টিপুকে ১৭৬ ধারায় ১০ দিনের সাজা দেন এবং ২০০ টাকা জরিমানা করেন। এ ঘটনায় সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিক রোকনুজ্জামান টিপুর নিঃস্বার্থ মুক্তি দাবি করেন। এবং ইউএনও’র অপ্রসারণ দাবি করেন।