দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফুলগাজীর আত্মস্বীকৃত এক মাদককারবারিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দৈনিক ফেনীর একাধিক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) ফুলগাজী আমলী আদালতের বিচারক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা তুজ জোহরার আদালতে এ মামলা করেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রহিম উল্ল্যাহ। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় ঢাকা পোস্টের জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক ফেনীর নিজস্ব প্রতিবেদক তারেক চৌধুরীকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এতে আসামি হিসেবে দৈনিক ফেনী পত্রিকার সম্পাদকের নামউল্লেখ করা হলেও মামলার এজাহারে আরিফুল আমিন রিজভীর স্থলে লেখা হয় আরিফুর রহমান। এছাড়া দৈনিক ফেনীর রিপোর্টার হিসেবে মামুনুর রহমান, ঢাকা পোস্টের রিপোর্টার হিসেবে জামশেদ আলম অনিক ও ওমর ফারুকের নামউল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু উল্লেখিত জামশেদ আলম অনিক ও ওমর ফারুক নামে ঢাকা পোস্টে কোনো সাংবাদিক কর্মরত নেই বলে জানিয়েছেন সহকারী বার্তা সম্পাদক রুহুল আমিন রয়েল।
মামলার এজাহারে নিজেকে জাতীয়তাবাদী দলের কর্মী ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ইউপি সদস্য উল্লেখ করে তাকে সামাজিকভাবে হেয়পতিপণ্ন করার উদ্দেশে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন রহিম উল্ল্যাহ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল ঢাকা পোস্ট ও দৈনিক ফেনীর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে রহিম উল্ল্যাহর সঙ্গে কিছু কথা বলার জন্য সময় চান তারেক চৌধুরী। পরে ১৮ এপ্রিল চারজন সাংবাদিক দৈনিক ফেনী ও ঢাকা পোস্টের লোগো সম্বলিত বুম (মাইক্রোফোন) নিয়ে বাদীর ফার্নিচার দোকানে প্রবেশ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে প্রশ্ন করেন। তারা রহিম উল্ল্যাহর কাছে ঢাকা পোস্ট ও দৈনিক ফেনীর সাংবাদিক তারেক চৌধুরীকে খুশি করার জন্য ও সংবাদ প্রকাশ না করতে ৫ লাখ টাকা চাঁদা করেন। প্রকাশিত সংবাদের কারণে তার এক কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মামলার এজাহারে অভিযুক্ত রহিম উল্ল্যাহর কাছে মুঠোফোনে তারেক চৌধুরী ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার কথা বলা হলেও এ ঘটনায় দৈনিক ফেনীর কোনো প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে যায়নি বলে জানান দৈনিক ফেনী সম্পাদক আরিফুল আমিন রিজভী ও সংবাদটির প্রতিবেদক তারেক চৌধুরী।
এ ব্যাপারে দৈনিক ফেনীর নিজস্ব প্রতিবেদক তারেক চৌধুরী বলেন, এটি অনুসন্ধানী সংবাদ। স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুঠোফোনে রহিম উল্ল্যাহর বক্তব্য নিয়েছি। এতে তিনি সবকিছুর দায় স্বীকার করে এসব কর্মকাণ্ড তার পেশা হিসেবে মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে সেটিই লেখা হয়েছে। এছাড়া তিনি যদি অভিযোগ অস্বীকার করতেন তখন সেটিই লেখা হতো। ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের সম্পূর্ণ কল রেকর্ড সংরক্ষিত আছে। সেখানে কোথাও চাঁদা দাবি কিংবা সংবাদের বিষয়ের বাইরে কোনো কথা হয়নি। তিনি এজাহারে যা উল্লেখ করেছেন তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও কাল্পনিক।
দৈনিক ফেনীর সম্পাদক আরিফুল আমিন রিজভী বলেন, এ ঘটনায় দৈনিক ফেনীর কোনো প্রতিবেদক রহিম উল্ল্যাহর সঙ্গে দেখা করেনি কিংবা তার দোকানে যায়নি। যে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে এবং যিনি নিজের বিরুদ্ধে গিয়েছে বলে মনে করছেন তিনি নিজেই এসব কাজে জড়িত বলে স্বীকার করেছেন। তবুও সংবাদটির বিষয়ে আদালতে মামলার আবেদন করার পরপরই বিচারকও সেটি গ্রহণ করলেন।
তিনি আরও বলেন, মামলা-হামলা দৈনিক ফেনীর কর্মস্পৃহায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে না। দৈনিক ফেনী কারো পক্ষে কিংবা বিপক্ষে সংবাদ করে না, সত্য তথ্যে সংবাদ করে এবং করে যাবে।
এদিকে সাংবাদিকদের জড়িয়ে মামলার ঘটনায় ফেনীতে কর্মরত সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) 'সীমান্তে চোরাচালানে সাম্রাজ্যে ইউপি সদস্য, বললেন ব্যবসা করি' এ শিরোনামে ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নে মাদক কারবার, চোরাচালান ও মানবপাচার চক্র নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক ফেনী ও ঢাকা পোস্ট। এতে উঠে আসে ফুলগাজী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বিএনপিকর্মী রহিম উল্ল্যাহসহ বেশ কয়েকজনের নাম, যারা সীমান্তে এসব অবৈধ কারবারে জড়িত।
মামলায় ঢাকা পোস্ট ও দুই সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করলেও বাস্তবে এ নামে ঢাকা পোস্টে কেউ নেই বলে জানান ঢাকা পোস্টের মফস্বল বিভাগের ইনচার্জ রুহুল আমিন রয়েল।
এ ঘটনা ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটি, ফেনী সাংবাদিক ইউনিয়ন, ইয়ুথ জার্নালিস্ট ফোরাম ও ফেনীর কর্মরত সাংবাদিকেরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
আরএ