দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চৌদ্দগ্রামের বাতিসা ইউনিয়নের লুদিয়ারা গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই ভূঁইয়া কানুর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৫৫ মিনিটে তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা কানু ও তার পরিবার।
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব হিলাল উদ্দিন
ওসি জানান, অভিযোগ পেয়ে তিনি নিজেই ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে যান এবং সেখানে দরজায় বেশ কয়েকটি কোপের চিহ্ন পান। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই ভূঁইয়া কানু জানান, ঈদ উদযাপনের জন্য তিনি গ্রামে এসেছিলেন। রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ১০-১২টি মোটরসাইকেলে করে আনুমানিক ২০-২৫ জন অস্ত্রধারী তার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে দরজা, জানালা ও টিনের চালায় আঘাত করতে থাকে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় তারা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ভয়ে তার পরিবার চিৎকার করলেও আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কের কারণে ঘর থেকে বের হতে পারেননি। পরে স্থানীয়রা চৌদ্দগ্রাম থানায় ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ আসার পর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধা কানু,বলেন আমরা কেন মামলা করবো, রাষ্ট্রের দায়িত্ব আমাদের নিরাপত্তা দেয়া।
বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী রেহানা বেগম বলেন, হামলাকারীরা এতটাই আতঙ্ক ছড়িয়েছিল যে আমি আমার স্বামী ও নাতিদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমরা কেউই নিরাপদ নই।
এর আগেও বীর মুক্তিযোদ্ধা কানুর ওপর একাধিকবার হামলা হয়েছে। ২২ ডিসেম্বর স্থানীয় জামায়াত কর্মী আবুল হাসেম মজুমদারের নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাকে লাঞ্ছিত করে এবং জুতার মালা পরিয়ে দ্রুত এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। এরপর তিনি পাশের জেলায় তার ছেলে বিপ্লবের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন ‘হামলাকারীরা মূলত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকে এবং সুযোগ বুঝে ফিরে এসে হামলা চালায়। এবারও তারা ঈদের ছুটিতে এসে হামলা করে গাঁ ঢাকা দিয়েছে।’ পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করবে না বললেন মুক্তিযুদ্ধা কানু সাহেব।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ।’
বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর এই হামলার ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
কে